দুই গোল দিয়ে সমতায় ফিরালো এমবাপ্পে

প্রকাশিত:রবিবার, ১৮ ডিসে ২০২২ ১১:১২


Manual8 Ad Code

Manual5 Ad Code

 কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার সাজানো ঘর তছনছ হয়ে গেছে এম্বাপ্পের ২ মিনিটের ঝড়ে। তার জোড়া গোলে ম্যাচের ৮১ মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে মাঠে নামে দুদল।

এদইকে প্রথমার্ধ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তাই পায়নি ফ্রান্স। বিরতির আগ পর্যন্ত ফরাসি শিবিরে ৬টি শটের মধ্যে দুটো গোল আদায় করে নেন মেসিরা। অপরদিকে আর্জেন্টিনার গোল বারে একটি শটও নিতে পারেনি এম্বাপ্পেরা। এতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই মেসি-ডি মারিয়ার গোলে ফরাসি শিবিরে চলে আর্জেন্টিনা তাণ্ডব। ফ্রান্সের জালের প্রথম গোল পাঠায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন মেসি। পরে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে অ্যালিস্তারের পাস থেকে গোল করেন ডি মারিয়া।

Manual4 Ad Code

এদিন ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি বক্সে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আলভারেজের বাইসাইকেল শটটি ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোল রক্ষক। তবে তার আগেই অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। তবে এর দুমিনিট পরই আলভারেজের পাস থেকে মিডফিল্ডার অ্যালিস্তার ডান পায়ের দুর্দান্ত ফ্রি কিক আবারো প্রতিহত করেন হুগো লরিস।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই ফরাসি শিবিরে দুটি শট নেয় আর্জেন্টিনা। এর একটি ছিল অনটার্গেট। এরপরই কাউন্টার অ্যাটাকে যায় ফ্রান্স। তবে ফরাসি তারকা এম্বাপ্পের চেষ্টা ব্যর্থ হয় আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগে।

ম্যাচের ২১ মিনিটে ডি মারিয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। আর এতেই মেসির পায়ে প্রথম সফলতা আসে আর্জেন্টিনার।

এদিকে ম্যাচের ৩০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোল বার বরাবর একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসি স্ট্রাইকাররা। অথচ এ সময়ে ৫টি শট নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে অ্যালিস্তারের দুর্দান্ত একটি পাসকে গোলে পরিণত করেন ডি মারিয়া। এরপর ম্যাচের প্রথমার্ধে নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে অতিরিক্ত ৭ মিনিটে গোলেই দেখা পায়নি কোনো দল। বিরতিতে যাওয়ার আগে ফাউল করে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এঞ্জো ফার্নান্দেজ হলুদ কার্ড পান। ২-০ গোলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

Manual6 Ad Code

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আরো আক্রমণাত্বক হয়ে উঠে মেসিরা। ৪৯ মিনিটে ফরাসি রক্ষণ বেধ করে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডি পলের ডান পায়ের দুর্দান্ত শট সেভ করেন ফরাসি গোল রক্ষক হুগো লরিস। তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে দুর্দান্ত একটি সুযোগ মিস হয়। ডি বক্সে মেসির ডান পায়ের শটটি একটুর জন্য ফরাসি জাল স্পর্শ করেনি।

ম্যাচের এই মুহুর্তে রক্ষণে শক্তি বাড়েত নজর দেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে স্ট্রাইকার ডি মারিয়াকে উঠিয়ে নেন আর্জেন্টাইন কোচ। মাঠে নামান ডিফেন্ডার আকুইনাকে। এরপরই কাউন্টার অ্যাটাকে যায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৬৮ ও ৭১ মিনিটে পরপর দুটি শট নেয় ফ্রান্স। তবে একটিও অন টার্গেট ছিল না। ডি বক্সের বাইরে বাম পাশ থেকে লম্বা শট গোল বারের উপর দিয়ে চলে যায়।

এদিকে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে পেনাল্টির ফাঁদে পড়ে মেসিরা। এম্বাপ্পের পা থেকে প্রথম গোল পায় ফ্রান্স। এর ২ মিনিট পরই ফের গোলের দেখা পান এম্বাপ্পে। জোড়া গোলে সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

দুদল যে ফরমেশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। দেখে নিন প্রথম লাইন আপ; আর্জেন্টিনা (৪-৪-২): এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নিকোলাস ওতামেন্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস তালিয়াফিকো, নাহুয়েল মলিনা, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তার, আনজেল দি মারিয়া, হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি।

ফ্রান্স (৪-২-৩-১): হুগো লরিস (গোলরক্ষক), ডাওট উপমেকানো, রাফায়েল ভারানে, থিও হার্নান্দেজ, জুলস কুন্দে, আঁতোয়া গ্রিজম্যান, আদ্রিয়েন রাবিও, অহেলিয়া চুয়ামেনি, জিরুদ, কিলিয়ান এমবাপে, উসমানে দেম্বেলে।

Manual1 Ad Code