|
প্রকাশিত:Saturday, 29 Nov 2025 12:11
হেলাল আহমেদ দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ফলে হাওরে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির আকাল। এই কারণে বোরো মৌসুমের শুরুতে জমিতে সেচের অভাবে হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরপারের কৃষক।
পানির আকাল, থমকে গেছে বোরো চাষ
বোরো ধানকে ঘিরেই হাওর অঞ্চলের মানুষের সারা বছরের অর্থনীতি চলে। কিন্তু বর্ষা শেষে বিলের পানি ধরে রেখে তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে সেচের মাধ্যমে জমিতে চাষাবাদের যে ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়া ছিল, তা এখন প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিলের পানি ধরে রাখার জন্য যেসব বাঁধ বা নালা (খালের মতো) ছিল, প্রভাবশালী মহল তাদের ব্যক্তিগত মাছের ঘের বা অন্য কোনো স্বার্থে সেই বাঁধগুলো কেটে অবাধে পানি বের করে দিচ্ছে। ফলে:
বিলে পানি নেই: বিলগুলো দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ায় স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সেচের অভাব: বোরো আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে ও চারা রোপণের সময় যে পানির প্রয়োজন, সেই পানি এখন হাওরে নেই। ফলে অনেক জমিতে এখনো বীজতলা তৈরি বা চারা রোপণ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ফসলের ঝুঁকি: যারা কোনোমতে সেচ দিয়ে চাষ শুরু করেছেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তাদের জমিতেও পানির অভাব দেখা দিয়েছে, যা ফসলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
কৃষকের হাহাকার
দিরাইয়ের চাপাতির হাওরের কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের চোখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা।
ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, খাকচিরা বিলের পানি ধরে রাখলে আমাদের সেচের জন্য কোনো চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু বাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়ায় এখন আমাদের মাথায় হাত। জমিতে সেচ দেবো কী দিয়ে? ধারদেনা করে আবাদ করতে এসে এখন পথে বসার অবস্থা।”
#প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অনিয়মের মাধ্যমে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনকারী প্রভাবশালী চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, জেলার এই অঞ্চলটি দেশের প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর অন্যতম। সেচের পানির অভাব দেখা দিলে লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।
কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি: অবিলম্বে বিলের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে হাওরের বিলগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে না পারলে দিরাই অঞ্চলের কৃষকরা এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
মোবাইলঃ০১৭১১৩৩১০৭০-০১৬১১২৪৭৫৭৪
ই-মেইলঃ surmaview24@gmail.com
অফিস :তপুবন আ/এ সিলেট-৩১০০।
Helpline - +88 01719305766