চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় জামায়াত নতুন করে আরেকটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। এমন বক্তব্যের জন্য আমরা তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বক্তব্যটি আমরা দেখেছি। এটা একান্তই উনার বক্তব্য। এটার ব্যাখ্যা উনি ভালো দিতে পারবেন। তার এই বক্তব্য জামায়াত সমর্থন করে না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এ ঘটনায় আমরা অভ্যন্তরীণভাবেও আমাদের মতো ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে আমাদের হস্তক্ষেপের কিছু নেই। অতীতে প্রশাসনের যারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেননি, তারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে শাহাজাহান চৌধুরী বলেন— “নির্বাচনে জিততে হলে প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে আনতে হবে। পুলিশ–ওসিকে আমাদের পেছনে ছুটে আসতে হবে। নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে হয় না; প্রশাসনকে আমাদের কথায় উঠতে–বসতে হবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।”
দলীয় প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন— “ওসি সকালে আপনার প্রোগ্রাম জেনে নেবে এবং প্রটোকল দেবে।” তিনি আরও বলেন, “যে সুযোগ এসেছে, তা আর আসবে না”, এবং নির্বাচনে দায়িত্বশীলদের “দুষ্ট লোকদের অপকর্ম প্রতিহত” করার পরামর্শ দেন।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান অঞ্চলব্যাপী এই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিকেলে তিনি হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম প্যারেড গ্রাউন্ডে নেমে সাংবাদিকদের বলেন— “নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে নির্বাচনের জেনোসাইড হবে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, আনোয়ার আলম চৌধুরী, আলাউদ্দিন সিকদার, অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল মোমিন প্রমুখ।

Web Nest Ltd.