সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শনিবার, ০৮ জুন ২০২৪ ১০:০৬

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল বাংলাদেশ

Manual6 Ad Code

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। চলতি বিশ্বকাপে এই দুই দলের আরও একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ দেখলো ক্রিকেটবিশ্ব। যেখানে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১২৫ রানের সহজ লক্ষ তাড়া করতে নেমে ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ভর করে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ।

শনিবার (৮ জুন) ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টেস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে ১২৪ রান তুলতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। ১২৫ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট কতে নেমে ২৮ রানেই বাংলাদেশের তিন টপ অর্ডার ফিরে যান সাজঘরে। এরপরেই জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে এই জুটির ৬৩ রানে ভর করে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় বাংলাদেশ। এই জুটি ভাঙার পর বাংলাদেশ দ্রুত আরও চার উইকেট হারালেও অভিজ্ঞ মাহামুদউল্লাহর ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

Manual5 Ad Code

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ। তবে ১২৫ রানের লক্ষে ব্যাট করতে মাত্র ২৮ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ফিরে যান সাজঘরে। শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এই পরেই জুটি গড়ে দরকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। এই জুটিতে ভর করে ঘুরে দাড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে আজ ওপেনিংয়ে নামেন তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। তবে নিজেদের জুটিকে বেশিদূর নিয়ে যেতে পারেননি তারা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ভেঙে যায় এই জুটি। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে মিড অনে ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার। তর বিদায়ে ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সৌম্যের বিদায়ের পর সাজঘরে পিরে যান আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও। নুয়ান থুসারার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তানজিদ। তার বিদায়ে ৬ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে তারাও ব্যর্থ হন নিজেদের জুটিকে বেশিদূর নিযে যেতে। দলীয় ২৮ রানে শান্তর বিদাযে ২২ রানে ভেঙে যায় এই জুটি। তাকেও ফেরান নুয়ান থুসারা। ১৩ বলে ৭ রান করা শান্ত নুয়ান থুসারার বলে চারিথ আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ তুলে দিযে ফিরে যান সাজঘরে। তার বিদায়ে ২৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

২৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। এই ‍জটিতে ভর করে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে বাংলাদেশ।

অবশেষে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটিকে থামান ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা। ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা হৃদয়। ফিল্ড আম্পায়ার শ্রীরঙ্কার আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় লঙ্কানরা। আর তাতে সফর হন তারা। যারে ফলে ২০ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হৃদয়কে। তার বিদায়ে ৬৩ রানেই এই জুটি।

Manual1 Ad Code

হৃদয়ের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। সাকিব-লিটন মিলে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন। তবে এই ‍জুটিকে থামান ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা। ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ৩৮ বলে ৩৬ রান করে। আম্পায়ের সিদ্ধান্তকে চ্যাল্ঞ্জে জারিয়ে রিভিউ নেন লিটন, তবে সফল হতে পারেননি তিনি, ফিরে যেতে হয় সাজঘরে। তার বিদায়ে ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

Manual7 Ad Code

৯৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। তবে অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটার ব্যর্থ হন নিজেদের জুটিকে বেশিদূর নিয়ে যেতে। দলীয় ১০৯ রানে মাথিশা পাথিরানার বলে মহেশ থেকশানার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান সাকিব। আউট হওয়ার আগে করেন ১৪ বলে ৮ রান।

সাকিবের পথ ধরে সাজঘিরে ফিরে যান রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। নুয়ান থুসারার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন রিশাদ হোসেন। রিশাদের বিদায়ের পরের বলেই এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তাসকিন। এই দুই ব্যাটারের বিদায়ে ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১১৩ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর নবম উইকেটে তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ১২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় উপহার দের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

Manual8 Ad Code

এর আগে শনিবার ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টেস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার বোলারদের বোলিং তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা লঙ্কানরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন পাথুম নিসাঙ্কা। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ৩টি, রিমাদ হোসেন ৩টি, তাসকিন ২টি ও তানজিম হাসান সাকিব ১ টি করে উইকেট নেন।