দোয়ারাবাজারে নদী পরাপারে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে খেয়াঘাটে নেই যাত্রী ছাউনি

প্রকাশিত:শনিবার, ২৬ আগ ২০২৩ ০৩:০৮

দোয়ারাবাজারে নদী পরাপারে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে খেয়াঘাটে নেই যাত্রী ছাউনি

Manual5 Ad Code
দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর, আজমপুর ও আমবাড়ী খোয়াঘাটে সুরমা নদী পারাপারে যাত্রী দূর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় ধরে এভাবে চলছে উপজেলার তিনটি খেয়াঘাটের বেহাল দশা হলেও এখানে উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগেনি। সুরমা নদী পারাপারে খেয়াঘাট খাকলেও নেই কোন পাকা সিড়ি। ঘাটের নদীর দুই তীরে যাত্রীদের ছাউনি নেই। এরপরও জরুরী প্রয়োজনে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার হাজারও মানুষ খেয়া পারাপার হয়ে ছুটছেন নিজ গন্তব্যস্থলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের এসব খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার লোকজন চরম ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতিবছর এসব খেয়াঘাট থেকে সরকারী কোষাগারে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব জমা হচ্ছে। খেয়াঘাট গুলোর উন্নতি না হওয়ায় প্রতিনিয়তই ঘটেছে দুর্ঘটনা। আজমপুর খেয়াঘাট থেকে দোয়ারাবাজার সদর, দোহালিয়ার জঙ্গলশ্রী থেকে উপজেলা খেয়াঘাট ও আমবাড়ি বাজার থেকে আদার বাজার খেয়াঘাটে রয়েছে অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সরজমিনে আজমপুর খেয়াঘাটে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের একমাত্র যাত্রী ছাউনির সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে বেহাল দশা। সিঁড়ি মেরামত না করায় নদীর পাড়ের উচু ঢালু রাস্তা বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় লোকজন। খেয়া নৌকায় মালামাল ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঘাটে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রীরা। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, বৃদ্ধাসহ অসুস্থ রোগীরা। খেয়াঘাটে কথা হয়, ইদনপুর গ্রামের বাসিন্দা সামছু উদ্দিনের। তিনি বলেন, উপজেলায় ছোট ব্যবসা থাকার সুবাদে এই খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন আমাকে যাতায়াত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ঘাট দিয়ে এভাবে কষ্ট করে খেয়া পারাপার হতে হয়। যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এই নদী পার হয়ে করছি। স্থানীয় কলেজ ছাত্র মামুন রহমান বলেন, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে ভয়ংকর বিপজ্জনক হয়ে উঠে খেয়াঘাট। সরকারী ভাবে এখানে একটি যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়ি ঘাট নির্মাণ করে দিলে সকলেই উপকৃত হবে।
উপজেলার তিনটি খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল পারাপার হয়ে থাকে। প্রতিবছর এসব খেয়াঘাট ইজারাবাবদ মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করছে সরকার। অথচ যাত্রী ভোগান্তি কমিয়ে আনতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। খেয়াপাড়ে ভেড়ানোর পাকা সিঁড়িঘাট না থাকার কারনে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারন যাত্রীদের। যাত্রী ছাউনি না থাকায় গরমের দিনে ও বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় নিরাপদে দাড়িয়ে থাকার জায়গাও পাওয়া যায় না। দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীমুল ইসলাম শামীম বলেন, স্থানীয় লোকজন এসব খেয়াঘাটের পাড়ে মাটি কেটে যানবাহন ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করছেন। ঢালু হওয়ায় খেয়াঘাট দিয়ে ওঠানামা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। খোয়াঘাটের জনসাধারনের যাত্রী পারাপারে দূর্ভোগ লাগবে মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান  তানভির আল আশরাফি চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর সরকার এখান থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেলেও ঘটের উন্নতি না হওয়া দুঃখজনক। এবিষয়ে জেলা পরিষদের প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ