জগন্নাথপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পদ শুন্য রয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রমে হিমশিম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রু ২০২৪ ০৭:০২

জগন্নাথপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পদ শুন্য রয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রমে হিমশিম

Manual2 Ad Code

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:-  দিঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পদ দুই টি শুন্য রয়েছে। অফিস সহকারী দিয়ে চলছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম দিঘদিন ধরে নেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ২ টি শূন্য রয়েছে।

Manual3 Ad Code

উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রয়োজনে জগন্নাথপুর সদর ও জেলা শহরে শিক্ষা অফিসে গিয়ে পরামর্শ নিতে হয়।

রীতিমত অভিভাবক হীনতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, কমছে শিক্ষার মান। এ থেকে সমস্যা থেকে উত্তরণে শূন্য পদগুলো পূরণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।

Manual4 Ad Code

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর সরকারি ও বেসরকারি মিলে ৬৭টি মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে এ উপজেলায় নেই মাধ্যমিক ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। গত ২০/৯/২০২৩ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে এম মুখলেছুর রহমান অবসরে চলে যান।

এক যোগ ধরে নেই এখানে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারী হিসেবে কখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একমাত্র অফিস সহকারী ও সুপার ভাইজার একাডেমি দিয়েই চলছে এ দপ্তর।

Manual2 Ad Code

আরো জানা যায়, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ২ টি, কলেজ রয়েছে ৭ টি, জুনিয়র মাদ্রাসা ২৫ টি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৩৫ টি ও মাদ্রাসা রয়েছে ৪২টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রায় ৫০০ শিক্ষক। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এ কার্যালয়ে পদ রয়েছে ৬ টি। এর মধ্যে প্রধান দুটি পদ শুন্য রয়েছে।

Manual2 Ad Code

২০/৯/২৩ হঠাৎ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম মুখলেছুর রহমান অবসরে চলে যান।

এছাড়া, শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জ
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
তিনিও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাশাপাশি জেলার ৫ টি
উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাকেও রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।

এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকার কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা। নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে যেতে হচ্ছে অফিস সহকারীর কাছে। জগন্নাথপুর
উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছেনা।

জগন্নাথপুর সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা নুরুল নাহার বলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খেতে হচ্চে। নতুন শিক্ষা অফিসার জরুরি মনে করি।

রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আব্দুল সামাদ জানান, দেখার কেউ নেই। সরকারি নতুন কারিগরি সৃষ্টি করেছেন তাহা প্রশিক্ষণ দেওয়া লোক নেই, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পদ দুই শুন্য,শিক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্ন সময় অফিসারের স্বাক্ষর লাগে, স্বাক্ষরের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা কর্মকর্তা কাছ থেকে সমাধান করতে হয়। শিক্ষা অফিসার জরুরি প্রয়োজনে।

জগন্নাথপুর উপজেলা মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ২ টি, টি পদ শূন্য থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, দিঘদিন ধরে এ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আমি, সুপার ভাইজার একাডেমি, অফিস সহায়ক ও গার্ড ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তা নেই। কাজকর্ম নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক সুপার ভাইজার একাডেমি অরুপ দাস বলেন আমাদের দুটি পদ শুন্য, শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে সমস্য হচ্চে।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে আছে।

সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, জগন্নাথপুর উপজেলাসহ অন্য উপজেলার শূন্য পদগুলোর চাহিদাপত্র সংবলিত চিঠি ইতোমধ্যে ডিজি অফিসে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ