পদ্মাপাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ, এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা

প্রকাশিত:শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ ০৯:০৬

পদ্মাপাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ, এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা

Manual4 Ad Code

আর মাত্র কিছু সময় বাকি। রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, দেশের দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বহু কাঙিক্ষত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে পদ্মাপাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

উদ্বোধন ও এই সমাবেশকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ও শিমুলিয়া ঘাটে সাজ সাজ রব।

ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চারপাশ। গৌরবের সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্বপ্নের মতো সেজেছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে। সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি, এখন অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনের। বিদেশি কূটনীতিকসহ দেশ বরেণ্য সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন এই অনুষ্ঠানে।

রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা-বিধৌত জনপদ। এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা।

শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেতু উদ্বোধন শেষে মাদারীপুরের বাংলাবাজারে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী জনসভাস্থলে শেষ পর্যায়ে রয়েছে মঞ্চ তৈরির কাজ। লাখ লাখ মানুষের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নির্বিঘেœ অনুষ্ঠান উপভোগের ব্যবস্থা। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ছয় শতাধিক টয়লেট, থাকছে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। নদীপথে আসা মানুষের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ২০টি পল্টুন। থাকবে ৪০ শয্যাবিশিষ্ট তিনটি অস্থায়ী হাসপাতাল।

প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসভাস্থলের সভামঞ্চ পদ্মা সেতুর আদলে সাজানো হচ্ছে। থাকছে ছয় দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। আর এসব ঘিরে মানুষের মনে, বিশেষ করে পদ্মাপাড়ের মানুষের ঘরে বইছে উৎসব। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা চৌকি। সব মিলিয়ে পদ্মাপাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

পদ্মাপাড়ের চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখতে আত্মীয়-স্বজনেরা বেড়াতে চলে এসেছে এরই মধ্যে। এই এলাকার গ্রামের মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দ-উদ্দীপনা। শনিবারের জন্য সবাই অপেক্ষায় রয়েছে। ঘরে ঘরে যেন ঈদের আনন্দ বইছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি শেষ। তাকে বরণ করতে দলীয় নেতাকর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। দফায় দফায় কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থল পরিদর্শন করছেন।

মাদারীপুরের শিবচরে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার কাঠালবাড়ি বাংলাবাজার এলাকার পদ্মা নদীর পাড়েই পদ্মা সেতুর আদলে সভামঞ্চ সাজানোর কাজ চলছে প্রায় এক মাসব্যাপী। দিনরাত শ্রমিকেরা কাজ করছেন।

জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। থাকবে দেয় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। র‌্যাব, পুলিশ, সেনা সদস্য, এসএসএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। সভাস্থলে ৫০০ অস্থায়ী শৌচাগার, ভিআইপিদের জন্য আরও ২২টি শৌচাগার, সুপেয় পানির লাইন, তিনটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা, প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের সভাস্থলে দূরের দর্শনার্থীদের জন্য ২৬টি এলইডি মনিটর, ৫০০ মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নদীপথে আসা মানুষের জন্য ২০টি পন্টুন তৈরি করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ করছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসার জন্য অতিথিদের কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে। অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র সঙ্গে আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমন্ত্রণপত্রে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সবাইকে অনুষ্ঠানস্থলে আসার জন্য বলা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

অনুষ্ঠান শুরুর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করে রিপোর্ট সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে অতিথিদের। চাবি, চাবির রিং, কলম, মোবাইল, ছাতা, হাত ব্যাগ, ক্যামেরা, ইলেক্ট্রনিক বস্তু না নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মাস্ক পরাসহ কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সব প্রটোকল অনুসরণ করতে বলেছে।

Manual5 Ad Code

আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে দেওয়া স্টিকারটি গাড়ির সামনের কাচের বাম পাশে দৃশ্যমান স্থানে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া শনিবার সকাল ৯টায় অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে আসন গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে। সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তের অনুষ্ঠানস্থলে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Manual8 Ad Code

এর এক মিনিট পরই প্রদর্শন হবে প্রামাণ্য চিত্র। এরপর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০টা পাঁচ মিনিটে সভাপতির বক্তব্য দেবেন। পদ্মা সেতুর থিম সং দেখানো হবে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে।

প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সোয়া ১০টায় বক্তব্য দেবেন। বক্তব্য শেষে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন তিনি। পরে সেখানে মোনাজাত হবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে এসে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।

এদিকে, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) সেতুর নির্মাণকাজ শেষে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দিয়েছে।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ