জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকার করবে না বিএনপি

প্রকাশিত:শনিবার, ০৭ ফেব্রু ২০২৬ ১০:০২

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকার করবে না বিএনপি

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান নির্বাচনের পর তার দলের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন। একইসঙ্গে তার দলের এককভাবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) নেতৃত্ব দানকারী ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান (৬০) প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন দলটির পুনরুত্থান ঘটেছে। এই দুই দল মিলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে। এর মধ্যে জামায়াত জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ সরকারের জন্য ওই অংশীদারত্ব পুনরায় চালু করার বিষয়ে রাজি আছে তারা।

২০২৪ সালের আগস্টে  শেখ হাসিনা দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।

নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”

তিনি বলেন, “তারা কতটি আসন পাবে আমি জানি না। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি তাদেরকে ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।”

তারেক রহমানের সহযোগীরা জানাচ্ছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে তাদের জোট শরিকেরা লড়ছেন।

Manual6 Ad Code

নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান।

তবে তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।”

সব জনমত জরিপেই বিএনপি জয়ী হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। তবে তাদেরকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও জরিপে উঠে এসেছে। তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জিদের দল (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক

Manual2 Ad Code

ঢাকার একটি আদালত গত বছর রায়ে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

Manual7 Ad Code

নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে।”

Manual1 Ad Code

তারেক রহমান বলেন, “তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা-ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।”

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তার পতনের আগে বা সেই সময়ের আশপাশে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত থাকার জন্য স্বাগতম

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার বেশি, সেখানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী রয়েছে, যাদের অনেকেই প্রতিবেশী বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে একাধিক দমন-পীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছেন, যেখানে তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর বলেছিল, ‘আমাদের অসংখ্য চ্যালেঞ্জের কারণে’ শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করার ক্ষমতা নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তারা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।

তারেক রহমান জানান, তিনিও চান রোহিঙ্গারা যেন দেশে ফিরে যান, তবে কেবল তখনই যখন পরিস্থিতি নিরাপদ থাকে।

তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব যাতে এই লোকেরা তাদের নিজস্ব ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। পরিস্থিতি তাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ হতে হবে। যতক্ষণ না এটি নিরাপদ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এখানে থাকার জন্য স্বাগত।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ