সুনামগঞ্জের সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চলতি নদীতে ছোটছোট বারকি নৌকা থেকে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়টি সরজমিনে সত্যমিথ্যা যাচাই করতে গিয়ে মখবুল ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন সলুকাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মনোনীত তিনজন শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার এই হামলার শিকার হন তারা। তাদের বেদড়ক মারপিট করে খালি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে জানান তারা। পরে সলুকাবাদ ইউপি সদস্যের জিম্মায় শ্রমিকদের ছাড়িয়ে আনা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকাল ২টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মথুরকান্দি এলাকার পুরাতন মসজিদের সামনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সলুকাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুল হক।
এতে বক্তব্য রাখেন সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন, সলুকাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এখলাছুর রহমান, ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাশেম, শ্রমিক আব্দুর রশিদ।
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও এলাকায় চলতি নদীতে প্রতিদিন অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি চক্র। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শ্রমিকদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করে আসছে তারা। বিষয়টি সলুকাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন কে বারকি শ্রমিকরা মৌখিক অভিযোগ দিলে পরে বিষয়টি যাচাই করতে পশ্চিম ডলুরা গ্রামের বিলাল হোসেন, পুরান মথুরকান্দি গ্রামের আলমগীর, সোনাপাড়া গ্রামের বুরহান উদ্দিন কে সরজমিনে গিয়ে যাচাইকরে বিষয়টি চেয়ারম্যান কে অবগত করার জন্য এই তিনজন কে পাটিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে চলতিনদীর কাইয়ারগাঁও অংশে গেলেই কাইয়ারগাঁও গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র মকবুল হোসেন, আব্দুল জলিলের পুত্র ফারুক মিয়া, আবুল কাশেমের পুত্র ওমর আলীর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন এই তিনজন।
আহতরা পশ্চিম ডলুরা গ্রামের বিলাল হোসেন, পুরান মথুরকান্দি গ্রামের আলমগীর, সোনাপাড়া গ্রামের বুরহান উদ্দিন। আহতরা জানান তাদের কৌশলে ডেকে নিয়ে গ্রামের এক দোকানঘরে আটকে রেখে বেদড়ক মারপিট করা হয়। এ সময় মকবুল হোসেনের বড় ভাই জাহাঙ্গীরনগর ইউপি সদস্য মানিক মিয়া খালি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক এই ৩ শ্রমিকের মুসলেকা হিসাবে স্বাক্ষর নেন।
এই খবর পেয়ে সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন ৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য সাথে সাথে লোক পাঠিয়ে দেন। তখন সলুকাবাদ ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ সহ কয়েক জন ঘটনাস্থল থেকে শ্রমিকদেরকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে জানতে পারেন তাদের কাছ থেকে মুসলেকা নেয়া হয়েছে। পরে ইউপি সদস্য ফারুক মিয়ার জিম্মায় তিন শ্রমিককে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হন।
প্রতিবাদ সভায় গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পুরান মথুরকান্দি গ্রামের আমির হোসেন, দুলাল মিয়া, আব্দুর রশিদ, উছমান গণি, আবুল কালাম, ইয়াছিন মিয়া, শামীম আহমদ, খসরুল হক, শমশের আলী, আজিজুর রহমান, আতাউর রহমান, আলা উদ্দিনসহ বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তরা বলেন, যদি তিন দিনের মধ্যে শ্রমিকেরা সুষ্ঠু বিচার না পান তবে স্থানীয় জিনারপুর বাজারে ইউনিয়নের সকল মানুষজন নিয়ে বিশাল প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।