সিলেটে এক মাদ্রাসার ছাত্রকে অপহরন করে হত্যা চেষ্টার দায়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:সোমবার, ০৩ অক্টো ২০২২ ০৮:১০

সিলেটে এক মাদ্রাসার ছাত্রকে অপহরন করে হত্যা চেষ্টার দায়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Manual8 Ad Code

সুরমাভিউ:-  সিলেটে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রকে অপহরন করে হত্যা চেষ্টার দায়ে এসএমপি’র জালালাবাদ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপহৃত ছাত্রের নাম হায়দার হোসেন ইয়াহিয়া (১৬), সে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা নাজির গাঁও শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্র ও নাজির গাঁও গ্রামের আলী আহমদের ছেলে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন নাজির গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জালালাবাদ থানা পুলিশ এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

Manual4 Ad Code

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত অনুমান ৮ ঘটিকায় নাজিরেরগাঁও সাকিনের পশ্চিমে কছির মিয়া মার্কেটের পশ্চিমে বাদাঘাট রাস্তার উপর একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে গ্রামের প্রভাবশালী ওয়ারিছ মিয়ার নেতৃত্বে অপরপক্ষের রাশিদ আলী, জমির আলী গংদের উপর চড়াও হয়ে তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করলে উপস্হিত এলাকার গণ্যমান্য লোকজন তাদেরকে নিভৃত করার চেষ্টা চালিয়ে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ওয়ারিছ মিয়া ও তার পক্ষের লোকজনকে খুন গুম করার প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উভয় পক্ষের মধ্যে এক আপোষ গ্রাম সালিশ মান্য করেন। এতে ওয়ারিছ মিয়া গংরা সন্তুষ্ট হতে না পেরে পরেরদিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার কিছু পুর্বে ওয়ারিছ মিয়া ও তার লোকজন প্রতিপক্ষের আলী আহমদ এর ছেলে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা নাজির গাঁও শাখায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র হায়দার হোসেন ইয়াহিয়া (১৬) নামক এক ছেলেকে তাদের বাড়ি থেকে একটু অদুরে খেলার মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরন করে ওয়ারিছ বাড়িতে নিয়ে হত্যার উদ্যেশ্যে নির্যাতন চালায়।

Manual1 Ad Code

এসংবাদ পেয়ে ওই ছাত্রের আত্মীয় স্বজন পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে ওয়ারিছ মিয়ার বাড়ি থেকে হাথ পা বাধা মুমুর্ষ অবস্হায় মাদ্রাস ছাত্র ইয়াহয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে থাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়,সেখানে তার শরীরের গোপনাঙ্গ সহ বিভিন্নস্থানে নির্যাতনের কঠিন চিহ্ন রয়েছে বলে মেডিকেল সুত্রে জানা যায়।

এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রের পিতা আলী আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়োকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এতে মামলার আসামীগন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে অপহৃত ছাত্রের পিতা সহ তার আত্মীয় স্বজনকে হাট-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শনসহ বর্নিত বিবাদীগন ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়ির আশপাশে প্রকাশ্যে মহড়া অব্যাহত রেখেছে বলে জানান মামলার বাদী আলী আহমদ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ