|
প্রকাশিত:Friday, 30 Oct 2026 07:10
মাথাব্যথা হলে অনেকে মাইগ্রেন আবার মাইগ্রেনের ব্যথাকে সাধারণ মাথাব্যথা মনে করে অবহেলা করেন। অথচ মাইগ্রেন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিল সমস্যা। এতে তীব্র মাথাব্যথার পাশাপাশি বমিভাব, আলো ও শব্দে অস্বস্তিসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একবার শুরু হলে ব্যথা চার ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নারী-পুরুষ উভয়েরই এ সমস্যা হতে পারে।
মাইগ্রেনের লক্ষণ কী?
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে বেশি অনুভূত হয়। ব্যথা ধুকপুক বা স্পন্দনের মতো হয় এবং চলাফেরা বা শারীরিক পরিশ্রমে বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে আলো ও শব্দে সংবেদনশীলতা, বমিভাব কিংবা বমি হতে পারে।
মাইগ্রেনের লক্ষণ সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ে দেখা দেয়।
১. মাথাব্যথার আগের লক্ষণ: মাথাব্যথা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন আগে অনেকের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন—আলো, শব্দ ও গন্ধে অস্বস্তি, অকারণে ক্লান্তি, বারবার হাই তোলা, নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, ক্ষুধামন্দা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং হজমের সমস্যা।
২. ‘অরা’ বা স্নায়বিক উপসর্গ: মাইগ্রেনে আক্রান্ত প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের মাথাব্যথার আগে বা চলাকালে ‘অরা’ দেখা দিতে পারে। এ সময় চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, কালো বিন্দু, আঁকাবাঁকা রেখা কিংবা ঝাপসা দেখা দিতে পারে। কারও মুখ, হাত বা পায়ে ঝিনঝিন কিংবা অবশ অনুভূতি হয়। কথা বলতেও সমস্যা হতে পারে। এসব উপসর্গ সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়।
৩. মাথাব্যথার পর্যায়: এ সময় তীব্র ব্যথা, বমিভাব, মাথা ঘোরা, ঘাড়ে ব্যথা, নাক বন্ধ বা পানি পড়া এবং আলো-শব্দে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
৪. ব্যথা পরবর্তী পর্যায়: মাথাব্যথা কমে যাওয়ার পরও এক দিন পর্যন্ত ক্লান্তি, বিরক্তি, পেশিতে ব্যথা, মনোযোগের অভাব কিংবা খাবারের প্রতি অনীহা থাকতে পারে।
মাইগ্রেনের কারণ ও ঝুঁকি
মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেরোটোনিন ও সিজিআরপি নামের রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্যহীনতা স্নায়ু ও রক্তনালির কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
নারীদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। সাধারণত ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে এ সমস্যা শুরু হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাইগ্রেন থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও মৃগীরোগের মতো সমস্যার সঙ্গেও মাইগ্রেনের সম্পর্ক রয়েছে।
যেসব কারণে মাইগ্রেন বাড়তে পারে
* অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা।
* অনিয়মিত ঘুম বা অতিরিক্ত ঘুম।
* সময়মতো খাবার না খাওয়া।
* আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অতিরিক্ত গরম।
* অতিরিক্ত আলো, উচ্চ শব্দ ও তীব্র গন্ধ।
মোবাইলঃ০১৭১১৩৩১০৭০-০১৬১১২৪৭৫৭৪
ই-মেইলঃ surmaview24@gmail.com
অফিস :৮০ তপোবন মেইন রোড আখালিয়া সিলেট-৩১০০।
Helpline - +88 01719305766