শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পরও শেষ রক্ষা হলো না টাইগারদের

প্রকাশিত:সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪ ১০:০৩

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পরও শেষ রক্ষা হলো না টাইগারদের
টানটান উত্তেজনা। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশের। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া পাহাড়সম ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৩ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। যার ফলে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা তুলে নিয়েছে ৩ রানের জয়।

সোমবার (৪ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬১ রান করেছেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেছেন জাকের।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ রান। দাসুন শানাকার করা ওভারের প্রথম বলটি ছিল ফুলটস, সেখানে ব্যাট চালিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন রিশাদ হোসেন। পরের বলটি নতুন ব্যাটার তাসকিনকে ওয়াইড করেন শানাকা। বৈধ দ্বিতীয় বলে এক রান নিলে স্ট্রাইক পান জাকের। তখন ৪ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০ রান। এমন সমীকরণের সামনে সীমানায় ধরা পড়েন জাকের। শরিফুল ইসলাম উইকেটে এসে প্রথম বলেই চার মারেন। পরের বলে আরও এক রান নিলে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৫ রান। কিন্তু তাসকিন ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। শ্রীলঙ্কা জয় পায় ৩ রানের।

শ্রীলঙ্কার দেওয়া পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস। ৩ বলে শূন্য রান করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে। তার বিদায়ে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

লিটস দাসের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে জুটি গড়েন সৌম্য সরকার। তবে তারাও ব্যর্থ হন নিজেদের জুটিকে বেশিদূর নিয়ে যেতে। দলীয় ২১ রানে সৌম্য সরকারের বিদায়ে ভেঙে যায় এই জুটি। ১১ বলে ১২ রান করা সৌম্য বিনুরা ফার্নান্ডোর বলে মিড অফে চারিত আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে পথ ধরেন প্যাভিলিয়নের।

সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা তাওহীদ হৃদয়ও আজ ছিলেন ব্যর্থ। সৌম্য সরকারের পথ ধরে দলীয় ৩০ রানে তিনিও ফিরে যান সাজঘরে। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ৮ রান। তার বিদায়ে ৩০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

৩০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি মাতিশা পাতিরানা। মাতিশা পাতিরানার বলে মিড উইকেটে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন শান্ত। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৮ রানের জুটি।

শান্তর পর অভিষেক হওয়া জাকের আলীকে নিয়ে জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এই জুটিতে ভর করে ১১ ওভার ৪ বলেই দলীয় শতক তুলে নেয় বাংলাদেশ। আর এরপরেই লঙ্কানদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লঙ্কানদের বিপক্ষে আজ তিনি ২৭ বলে তুলে নেন অর্ধমতক। যার মধ্যে রয়েছে ২ টি চার ও ৪ টি ছয়ের মার।

তবে অর্ধশতক তুলে নিলেও নিজের ইনিংসকে আর বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ৩১ বলে ৫৪ রান করে মহীশ তিকশানার বলে আভিস্কা ফার্নান্ডোর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৭ রানের জুটি। রিয়াদের বিদায়ের পর টাইগারদের আশা দেখাতে থাকেন জাকের আলী। এর আগে এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই ম্যাচ দিয়েও আসল অভিষেক হলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে আলো ছড়ানো জাকেরের। একে একে ৬ ছক্কা মেরে সিলেটের মাঠে উপস্থিত দর্শক সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এই লোকাল বয়।

দলীয় ১৮০ রানে বিদায় নেন ১১ বলে ১৬ রান করা মেহেদী হাসান। জয়ের জন্য তখন ১৩ বলে দরকার ২৭ রান। ম্যাচ শেষ করে আসার দায়িত্বটা তখন জাকেরের। পাথিরানার করা ১৯তম ওভারে ১৫ রান। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১২ রান।

২০তম ওভারের প্রথম বলেই বিদায় নেন রিশাদ হাসান। দ্বিতীয় বলটি ওয়াইড দেন বোলার। এরপরের বলে সিঙেল নিয়ে জাকেরকে দেন তাসকিন। কিন্তু কপাল খারাপ। শানাকার বলটি লংঅনে তুলে মেরে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন জাকের। ৩৪ বলে ৪ চার ও ৬ ছয়ে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে বিদায় নেন জাকের।

শেষ তিন বলে জয়ের জন্য ১২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের। চতুর্থ বলে চার মারেন শরিফুল ইসলাম। পঞ্চম বলে তিনি সিঙেল নিলে জয়ের জন্য শেষ বলে ৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের। কিন্তু তাসকিন মাত্র ১ রান নিতে পারেন। ৩ রানে হার মানে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, বিনুরা ফার্নান্ডো ও দাসুন শানাকা ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মাহেশ থিকসানা ও মাথিশা পাথিরানা ১টি করে উইকেট লাভ করেন।