কোথায় যাচ্ছে চৌমুহনি খুর্শিদ হাইস্কুল এন্ড কলেজের ফান্ডের টাকা, ১৮ মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন না পাওয়া সহ অভিযোগের পাহাড়!

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৯ ফেব্রু ২০২৪ ০৯:০২

কোথায় যাচ্ছে চৌমুহনি খুর্শিদ হাইস্কুল এন্ড কলেজের ফান্ডের টাকা, ১৮ মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন না পাওয়া সহ অভিযোগের পাহাড়!

মাধবপুর(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি:-  হবিগঞ্জের মাধবপুরের এমপিওভুক্ত চৌমুহনি খুর্শিদ হাইস্কুল এন্ড কলেজের ১৮ মাস ধরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান ফান্ডের থেকে বেতন-ভাতাদি দেওয়া হচ্ছে না।চাকরিতে আঘাত আসতে পারে এই ভয় অভিযোগ কিংবা গণমাধ্যমে বক্তৃতা দেওয়ার সাহসও করছেন না ভুক্তভোগীরা শিক্ষক কর্মচারী ও গভর্নিং কমিটির কেউ কেউ।

প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি মো: রহম আলী মাধবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি যিনি স্থানীয় সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ার কারণে তাকে জবাবদিহিতা কিংবা প্রশ্ন করতে ভয় পান সংশ্লিষ্ট অনেকে।গভর্নিং বডির সভাপতির সরলতার সুযোগে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের টাকা ভুয়া-বিল ভাউচারে উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অভিভাবক সদস্য মোঃ আব্দুল হামিদ জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন কলেজ মার্কেটে চল্লিশের অধিক দোকান রয়েছে। যার কোন কোনটির কাছ থেকে ১১ লাখ,কোনটি থেকে ১০ লাখ করে সিকিউরিটি গ্রহণ করা আছে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে। প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ অর্ধ লক্ষ টাকাও চেয়ে বেশি উঠে। শিক্ষার্থী শুধু হাইস্কুল শাখাতে রয়েছে হাজার অধিক। তাদের মাসিক ফিও কম নয়। এসব সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি টানাপোড়ন,শিক্ষকদের হয়রানি, বাকস্বাধীনতার রুদ্ধ করা,নিম্নমানের শিক্ষা ও সময়ে সময়ের সরকারি পিআইও বরাদ্দের টাকা হরিলোট ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ওই সাবেক অভিভাবক সদস্য।

সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কিছু অনিয়ম নিয়ে পোস্ট দিলে কমিটি নড়েচড়ে বসে।গভর্নিং বডি সভাপতি রহম আলী তাকে ডেকে নিয়ে শাসান জানা বলেও জানা যায়।

ওই ফেইসবুক পোস্টে হামিদুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির নানান দুর্নীতি ও অনিয়মসহ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের গালিলতিমূলক আচরণের বর্ণনা দেন।বিভিন্ন চাপের মুখেও এখন পর্যন্ত ওই সাংবাদিককে ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করতে দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য আজহার উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে অনিয়ম ও গাফিলতি অনুসন্ধানে করে একটি অডিট কমিটি গঠন করে।তাৎক্ষণিক অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র শিক্ষকের বকেয়া পরিশোধ করে দেয়।তবে ভুক্তভোগী অন্যান্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধের কোন খবর পাওয়া যায়নি। অডিট কমিটির প্রধানকে প্রতিষ্ঠানে আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভুয়া বিল ভাওচারে অর্থ আত্মসাৎ হয় কিনা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,একটি কুচক্রী মহল এসব প্রশ্ন তুলছে? এসব বিষয়ে আমাদের তদন্তে সত্যতা পেলে আমরা তদন্ত সেটা অবশ্যই জানাবো।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্য সচিব মোহন মিয়া বলেন,প্রতিষ্ঠানটিতে কি ফান্ড আছে তা তিনি জানেন না ।শুধু জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি ব্যাংকে সামান্য একটি এফডিআর করা রয়েছে।তার প্রতিষ্ঠানের যেকোনো হিসাব দেখাতে তার কোন আপত্তি বা দুর্বলতা নেই।এ নিয়ে অডিট কমিটি কাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বরাদ্দে গড়ে উঠা মাহবুব আলী ভবনেও বেহাল দশা।এতে শ্রেণিকক্ষে তীর হিসেবে কাঠের পরিবর্তে বাশ ব্যবহার করা হয়েছে।শ্রেণিকক্ষে ভাঙ্গা বৈদ্যুতিক ফ্যান ঝুলছে।এদিকে মন্ত্রীর অনুদানের ভবনের টিআর খাতের কত টাকা বরাদ্দ ছিলো বা টিআর খাতের অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্টানে ব্যবহার করা যায় কিনা বিষয়ে এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পূর্বদিকের সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসে বিপজ্জনক পরিবেশে পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষ ঘেষা নোংরা টয়লেটের দুর্গন্ধে শিক্ষাদান পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফান্ড সংকটের কথাও জানান।

প্রতিষ্ঠানটির শেখ রাসেল আইসিটি ক্লাবের কর্মকান্ড নেই। ক্লাবের ভিতরে সকল কম্পিউটার চুরির ঘটনায়ও যে মামলা হয়েছে সে মামলায় পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে।অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য শামসুদ্দিন চৌধুরীর ওয়ারিশদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।কলেজ মার্কেটের দোকান বরাদ্দে চুক্তি মোতাবেক নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না এ মর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের কিছু ব্যবসায়ী।

ওই গভর্নিং বডির আরেক সদস্য সাহাবুদ্দিন জানান, বিভিন্ন মিটিংয়ে শাখার ১৫ জন ও স্কুল ও কলেজের ৬ জন কর্মচারীকে এমপিওভক্তির সরকারি টাকা পেলেও প্রতিষ্টানের ফান্ড থেকে এক বছরের অধিক সময় ধরে ভাতাদি প্রদান করা হচ্ছে না।বাস্তবে স্কুলের যে বেতন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এরপরেও এমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ফান্ড সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে সেখানে কোন দুর্নীতি ঘটনা ঘটছে কিনা তা সম্প্রতিক গঠন করা অডিট কমিটিই বলতে পারবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান,প্রতিষ্ঠানটি নানামুখের সমস্যা জর্জরিত। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয়।এর বেশি চেয়ারম্যান হিসেবে বলার এখতিয়ার আমি রাখি না।

হবিগঞ্জের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ প্রতিষ্ঠানটির নানামুখী সমস্যা ও অনিয়ম খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জানান,গভর্নিংবডির দায়িত্ব এখানে বেশি তবে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়ানোর ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা কোন কমতি নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ