একজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত || বিনম্র শ্রদ্ধা প্রিয় নেতা- এনামুল হক লিলু

প্রকাশিত:সোমবার, ০৫ ফেব্রু ২০২৪ ০৪:০২

একজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত || বিনম্র শ্রদ্ধা প্রিয় নেতা- এনামুল হক লিলু

বিনম্র শ্রদ্ধা….একজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, একটা দেশ,একটা সংস্কৃতি, একটা রাজনীতির অবয়ব তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট কি না জানিনা, তবে আজও তাঁর পরিপুরক, তাঁর যথাযথ স্থলাভিষিক্ত কেউ সেইভাবে নজর এড়ায় না। জীবনের একটা সুন্দর সময় জাতীয় নেতা বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের খুব সান্নিধ্যে থাকার সৌভাগ্য হয়েছে, প্রতিটা মুহূর্ত মনের সমস্ত ভাবাবেগ আর কৌতুহল নিয়ে নেতার চলন-বলন প্রত্যক্ষ করতাম, প্রতি দিন, প্রতি মুহুর্তে মনে হত নতুন কিছু চিন্তা,নতুন উক্তিতে, চির উন্নত মমশীর এর জানান দেয়াই নেতার কাজ।

 

মানুষের মনের কথা বুঝার যে বিরাট মনোবিজ্ঞান সুরঞ্জিত সেন মনে ধারণ করতেন সেটা আজও অন্য কারোতে আমি প্রত্যক্ষ করিনি। শ্রুতের অনুকূলে চলার মানসিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র চিল নেতার, সর্ব অবস্থায় ভাবতেন নতুন কিছু করা,আগামী প্রজন্মের জন্য নিজেকে জানিয়ে প্রস্থান নেয়া। মৃত্যু নিয়ে কবি গুরুর অসংখ্য কবিতা আবৃতি করতে শুনেছি জীবন সায়াহ্নের দিকে, মৃত্যুটাকে ঠিক ভয় পেতেন নাকি প্রস্তুতি নিয়ে পরলোক আলিংগন করবেন বুঝে আসত না,কিন্তু উনার ভরাট কণ্টের শুদ্ধ উচ্চারণ শ্রুতি মধুর লাগত।

 

জীবনের পেলে আসা অনেক কষ্টের বর্ননা যথটা সম্ভব সংক্ষেপে দিলেও আনন্দের বা মজার মুহুর্তটা বারংবার নিখুঁত বর্ননায় অগনিত সহচরদের মন ভরে রাখার এক যাদুকরী প্রয়াস লক্ষ্য করতাম। সাথে থাকা কোন মানুষই মন খারাপ করার সুযোগ পায়নি নেতার কৌতুক সমৃদ্ধ সুন্দর ইউনিক উক্তির কারণে।

 

দেশের প্রতিটি এলাকা নিয়ে যেমন হাস্যরসের ঘটনা বলতেন, ঠিক সেই ক্ষনেই এই এলাকা কিসের জন্য বিখ্যাত, কে কে বড় মাপের ব্যক্তিত্ব তার বর্ননা দিতেন, তাতক্ষণিক এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে না পারলেও পরে বুঝেছি, সহাস্যে আমাদের মনযোগ আকর্ষণ করে, বরেণ্য ব্যক্তিদের পরিচিতি আমাদের কাছে তুলে দিয়ে উনি স্বস্তি পেতেন। রাজনৈতিক এত মারপেঁচ জীবনে উনার নিজের উপর ঝড়ের আবহ দিয়ে গেলেও প্রতিপক্ষ গ্রুপ বা রাজনীতির মানুষের নাম কখনও উচ্চারণ করতেন না, এমনকি তদবির নিয়ে আসা প্রতিপক্ষের মানুষের আদর্শিক ব্যক্তিটিও হতভম্ব হয়ে নিজ তদবির সেরে যেতে দেখেছি।

 

এক বছরের রাজনীতির ইতিহাস নিয়ে আরেক বছর এম.পি,পরের বছর মন্ত্রী হতে দেখা নেতাদের গমনাগমন দেখে শুধু থাকাই আর ভাবি, আহারে রাজনীতির এত রুপ? হাজারো মানুষের তদবিরে কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে যেমন দেখিনি, কেউ নেহাত খালি হাতেও ফিরেনি, অন্তত মনের সন্তুষ্টি নিখাঁদ ভাবেই পেয়েছে। কষ্টের কথা হল, যে মানুষ গুলো সিলেট বিভাগের অনেক অঞ্চলেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নামে নিজের ব্যক্তিত্বের বা রাজনীতির অস্তিত্ব খোঁজে পেয়েছে, তারাও আজ বেমালুম না চেনার ভান করছে।

 

এই ব্যপারটি শুধু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বেলায় নয়, মরহুম জাতীয় নেতা আব্দুস ছামাদ আজাদ, হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, উনাদের বেলায়ও একই। উনাদের জীবদ্দশায় যারা সান্নিধ্য পেয়ে বাড়ি, গাড়ি সহ রাজনৈতিক পরিপুষ্টি পেয়েছেন, কেন যেন উনাদের জন্ম-মৃত্যু স্বরণ করাটাকে অনিহায় রুপান্তর করেছেন। এর বিপরীতে আরেকটা জিনিস লক্ষ্যণীয় জীবদ্দশায় প্রয়াত নেতার চক্ষুশূল হিসাবে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডে পরিচিত কিছুলোক ইদানীং দেখলে মনে হয়, নেতার এক পুত্রের চেয়েও দরদী উনার সহধর্মিণীর কাছ থেকে স্বার্থ হাসিলের লাইনে বিরাজমান পুত্রদ্ধয়।

 

নেতা নয় শুধু মানুষকে শ্রদ্ধা ভালবাসায় অম্লান রাখার শিক্ষা নিখাঁদ রাখা উচিত, স্বার্থের বেড়াজালের উর্ধ্বে উঠে, কারণ এই শিক্ষাটা নিজ নিজ পিতা-মাতার ক্ষেত্রেও এক সময় প্রযোজ্য হতে পারে, এমনকি পারে নিজের জীবনেও। আজকের ছাত্র নেতা,পরবর্তীতে যুব নেতা, এক সময় ভাগ্যা অনূকূল হলে জাতীয় নেতায় রুপান্তর যেমন হবে, তেমনি বয়সটাও মরণের দিকে এগুবে, যাদের স্বরণ করার আকুতি নিজেকে চলনার আশ্রয় নিতে শিখিয়েছে সেটা নিজের দিকে দাবিত হচ্ছে কি না, সময়ের শিক্ষা মাত্র।

 

রাজনীতির উথ্যান পতন সময় এবং প্রকৃতির চাহিদা, কে কখন কোথায় পদস্ত হবে আর অপদস্ত হবে সবাই হয়তো নিশ্চিত বলতে পারবে না, কিন্তু মৃত্যু জন্ম নেয়া মানুষ মাত্রই এই স্বাদ গ্রহণ করবে, এটা সবার নিখুঁত ধারণা থাকা বাঞ্চনীয়। প্রয়াত জাতীয় নেতা বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সহ সকল প্রয়াত জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। রাজনৈতিক গুরু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সব সময়ের মতই স্বরণ করি তোমায়, পরপারে ভালো থেক।