মাধবপুরে ৩ বাচ্চার মায়া ছাড়তে পারেনি মা মেছো বিড়াল : উদ্ধার অত:পর বনে অবমুক্ত হলো

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ৩০ জানু ২০২৪ ০৯:০১

মাধবপুরে ৩ বাচ্চার মায়া ছাড়তে পারেনি মা মেছো বিড়াল : উদ্ধার অত:পর বনে অবমুক্ত হলো

শেখ মো শাহীন উদ্দীন:-  হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটির স্তূপ থেকে মা মেছো বিড়ালসহ তিনটি বাচ্চা বন বিভাগের সহযোগিতায় উদ্ধার করলো বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টায় উপজেলার বাঘাসুরা ইউপির মানিকপুর গ্রামে তিনটি বাচ্ছাসহ মা মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করা হয়।

সুত্র জানায়, ওই গ্রামের শাহ আলম মিয়ার বাড়ির কাছে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর পর বাচ্চাগুলো অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও মা বিড়ালটি বাচ্চাগুলোকে ছেড়ে যায়নি বরং সেখানেই অবস্থান করছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পাখিপ্রেমিক সোসাইটির সদস্যরা খবর পেয়ে বিষয়টি বন বিভাগকে জানায়।

পরে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির ও হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমানের সহযোগিতা ও পরামর্শে স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান,পাখিপ্রেমিক সোসাইটি প্রতিনিধি সোহাগ মিয়া, শাহজীবাজারের ফরেস্ট গার্ড সৈয়দ হামিদুর রহমান, গ্রাম পুলিশ মোখলেছুর রহমান ও সাংবাদিক রুবেল আহমেদ রনি প্রমুখের সহযোগিতায় প্রাণীগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের স্থানীয় রঘুনন্দন পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়।

মেছো বাঘ উদ্ধারের প্রত্যক্ষ উদ্ধারকর্মী স্থানীয় রঘুনন্দন রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, অবাক করার বিষয় যখন বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করি তখন তার মা মেছো বাঘটি আমাদের পিছন পিছন আসে। বাচ্চার মায়া ত্যাগ করেনি।পরে আমার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সিলেট জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির এর নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক হবিগঞ্জ এর সহযোগীতায় আমরা অত্যন্ত সযত্নে বাচ্চাগুলোকে স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করি।

হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান
বলেন, বন্যপ্রাণী উদ্ধার আমাদের রেগুলার রুটিন কাজ। আজকে পাখিপ্রেমিক সোসাইটির সদস্যরা মেছো বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানালাম।

তিনি আরো জানান, মেছো বিড়ালকে (Fishing Cat) অনেক এলাকায় মেছোবাঘ নামেও ডাকে। কিন্তু এর প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। অথচ বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না। বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মেছো বিড়ালগুলো উদ্ধার করায় স্থানীয় জনতা ও পাখিপ্রেমিক সোসাইটির সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ