ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই

প্রকাশিত:শনিবার, ০৯ ডিসে ২০২৩ ১০:১২

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের প্রকাশক বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আর নেই। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মইনুল হোসেনের জুনিয়র ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মইনুল হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রাজু আহমেদ জানান, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বারিধারা মসজিদে প্রথম জানাজা এবং বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মইনুল হোসেন ২০০৭ সালের বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়াও তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সালে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে সারাদেশে একই অভিযোগে ২২টি মানহানির মামলা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় কারাভোগও করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে উচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে করা সবকটি মামলা স্থগিত করে তাকে জামিনে মুক্তি দেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। তারপরে মিডল টেম্পল এ আইন বিষয়ক পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৫ সালে বার থেকে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রচলন করলে তিনি তার পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের পরিচালিত দল ডেমোক্র্যাটিক লীগে যোগ দেন এবং ৩ নভেম্বর মোশতাক সরকারের পতন পর্যন্ত তিনি ডেমোক্র্যাটিক লীগেই ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশের সংবাদ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০০-০১ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ