সিলেটের ফুটপাতে ‘লাইনম্যান’ সাকিবের চাঁদাবাজি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৮ নভে ২০২৩ ০৫:১১

সিলেটের ফুটপাতে ‘লাইনম্যান’ সাকিবের চাঁদাবাজি

সুরমাভিউ:-  সিলেটের ফুটপাতে রকিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য লাইনম্যান সাকিবের চাঁদাবাজি চলছেই। এনিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সোমবার সন্ধ্যায় এমনই এক ঘটনায় টুকেরবাজার এলাকার এক ছোটো ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তবে এসব চাঁদাবাজির ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন হকার্স লীগ নেতা রকিব আলী।

সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার এলাকার ফুটপাতে বিভিন্ন গ্রুপের নামে চাঁদা আদায় করা হয়। ছোটো ব্যবসায়ী বা হকাররা পসরা সাজিয়ে বসতে হলে গুনতে হয় গাঁটের টাকা।

জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই হকার্স লীগ নেতা রকিব আলীর নামে তার লোকজন ফুটপাতের প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কখনো সিলেট সিটি করপোরেশন, কখনোবা অন্য কোনো সংস্থার নামে  ৫০ থেকে একশ’ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে থাকে। এ কাজটি সাকিব, রাসেল, সুহেল, আলাউদ্দিন, কাল্লু, রিপন, সুমনসহ আরও কয়েকজন।

সোমবার তেমনই এক ঘটনায় আহত হয়েছেন নগরীর টুকেরবাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি তার পণ্য নিয়ে নগরভবনের সামনে বসেছিলেন। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত ‘লাইনম্যান’ হিসাবে পরিচিত সাকিব। তিনি ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ টাকা চাঁদা দাবি করলে ব্যবসায়ী তা দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে সাকিব ও তার লোকজন ওই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর গায়ে হাত তুলে। তার মালামাল রাস্তায় ফেলে দেয়। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। অন্যান্য ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাকিবকে আটক করেন।

পরে হকার্স লীগ নেতা রকিব আলী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

জানা যায়, বন্দরবাজার এলাকায় রকিব আলীর রয়েছে বিশাল একটি চাঁদাবাজ চক্র। এই চক্রের সদস্যরা নিরীহ হকারদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংস্থার নামে চাঁদা আদায় করে। পরে ওই টাকা প্রতিদিন রাতে জমা দেন রকিব আলীর কাছে। হয় ভাগ বাটোয়ারা।

তবে চাঁদাবাজ চক্রের সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন সিলেটের আলোচিত হকারলীগ নেতা রকিব আলী। তিনি জানান, সাকিব, রাসেল, সুহেল, আলাউদ্দিন বা কাল্লু রিপনদের হকার হিসাবে তিনি চিনলেও তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানেন না। তার নামে কখনো কেউ চাঁদা চাইলে তিনি তাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার রাতে পুলিশ নিয়ে সাকিবকে উদ্ধারের কথাও তিনি অস্বীকার করেন।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লল গোস্বামী বলেন, ফুটপাতে বসা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পরে আমরা গিয়ে নগরভবনের সামনা থেকে সব হকারকে সরিয়ে দেই। চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ কেউ করেন নি।

তিনি রকিবের সাথে গিয়ে সাকিবকে উদ্ধারের বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ