অহিংস ধর্মচর্চা সমাজের শান্তি ও আলোকিত করে – ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১০ নভে ২০২৩ ০৮:১১

অহিংস ধর্মচর্চা সমাজের শান্তি ও আলোকিত করে – ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া

সুরমাভিউ:-  শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেছেন, বুদ্ধে শিক্ষা শান্তির শিক্ষা, বুদ্ধের শিক্ষা ত্যাগের শিক্ষা। ধর্ম মানেই নীতিকথা, ধর্ম মানেই নৈতিকতা আবার পরলৌকিক শান্তি। তাই আমরা ধর্ম বিশ্বাস করি এবং সবাই ধর্ম পালন করি। বুদ্ধের ধর্ম শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম হিংসার ধর্ম নয়, এই ধর্ম অহিংসার ধর্ম। এই ধর্ম ভোগের ধর্ম নয়, এই ধর্ম ত্যাদের ধর্ম। এই বিজ্ঞানের ধর্ম, এই ধর্ম দর্শনের ধর্ম। এই ধর্ম সকল প্রাণীর ধর্ম, এটি আলোর পথের ধর্ম। বুদ্ধের শিক্ষায় অনুপ্রানিত হয়ে ত্যাগের মাধ্যমে আত্মাকে আলোকিত করতে হবে। ধর্ম চর্চার মাধ্যমে নিজেকে আত্মসুদ্ধির মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করতে হবে। ধর্ম নিজের শান্তির কথা বলেনা, ধর্ম সমাজের, দেশের এবং প্রতিবেশিসহ সবার শান্তির কথা বলে। বুদ্ধের শিক্ষায় আমরা অনুপ্রেরিত হয়ে আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমাজ, দেশ তথা সকলের প্রতি উদার মনোভা নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবদান রাখতে হবে।

গতকাল (১০নভেম্বর শুক্রবার) সিলেট নগরীর আখালিয়া নয়াবাজারে সিলেট বৌদ্ধ বিহারে ”সিলেট বৌদ্ধ সমিতির” উদ্যোগে দিনব্যাপী দানশ্রেষ্ট দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সিলেট বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ সংঘানন্দ মহাথের এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগীনির অতীশ দীপংকর মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স এর পরিচালক শ্রীমৎ করুণা নন্দ থের, ঢাকার আবাসিক-ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের প্রাজ্ঞ সদ্ধর্মদেশক শ্রীমৎ ধর্ম্মরত্ন থের ও শ্রীমৎ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ থের। উপস্থিত ছিলেন সিলেট বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ শ্রীমৎ মহানাম ভিক্ষু এবং শ্রীমৎ আনন্দশ্রী শ্রামন।

উদ্বোধনী ভাষন প্রদান করেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি নিশুতোষ বড়ুয়া, আহবায়কের বক্তব্য রাখেন শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির আহবায়ক বাবু পংকজ কুমার বড়ুয়া ঝুলন এবং সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু পলাশ বড়ুয়া।

আয়োজিত অনুষ্টানে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা দেবপ্রিয় চাকমা, জ্যেতিমিত্র বড়ুয়া মিটুল, অরুন বিকাশ চাকমা, সুকান্তি বড়ুয়া। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ডা দেবপ্রিয় চাকমা ও ডাঃ স্বপন বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপদেষ্টা পিপলু বড়ুয়া, আদেশ বড়ুয়া। যুগ্ম আহবায়ক বড়চোখা চাকমা, সদস্য সচিব রাজ বড়ুুয়া, যুগ্ম সদস্য-সচিব ইমন বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া (বাঁধন), রুবেল বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া (টেন), দিপ্তিমান বড়ুয়া, লিটন বড়ুয়া, এনজয় বড়ুয়া, ––সুমন বড়ুয়া, তিতাস বড়ুয়া, রবি বড়ুয়া, শিমুল বড়ুয়া, শংকর বড়ুয়া, আকাশ বড়ুয়া, বিজয় বড়ুয়া , জয় বড়ুয়া, তন্ময় বড়ুয়া ও সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্টান পরিচালনা করেন সহ সভাপতি চন্দ্র শেখর বড়ুয়া ও চন্দ্রিকা বড়ুয়া মন্টি।

দিনব্যপী অনুষ্ঠানে সকাল ৭ ঘটিকায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিকখ্ার দান, সমবেত প্রার্থনা, ধর্মদেশনা, মধ্যাহ্ন ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঙ্গলাচরণ, আলোচনা সভা ও কঠিন চীবর দান উৎসর্গের মাধ্যমে সমাপনী হয়। বিজ্ঞপ্তি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ