অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল রোটারী ডিস্ট্রিক্ট হেপাটাইটিস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত

প্রকাশিত:শনিবার, ০১ জুলা ২০২৩ ০৮:০৭

সুরমাভিউ:-  রোটারী ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮১ বাংলাদেশের হেপাটাইটিস কমিটির চেয়ার পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

আজ (১ জুলাই) নতুন রোটারী বছরের প্রথম দিনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রোটারীর নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদযাপনের জন্য হাতিরঝিলে সকালে একটি রোটারী ইয়ার লঞ্চিং র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে র‌্যালির উদ্বোধন করেন বানিজ্য মন্ত্রী রোটারিয়ান টিপু মুন্সী। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮১ নবনিযুক্ত ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর রোটারিয়ান আশরাফুজ্জামান নান্নু।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ইমিডিয়েট পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার এম এ ওয়াহাব, পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর রোটারিয়ান জয়নাল আবেদীন, পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর রোটারিয়ান সেলিম রেজা, ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর ইলেক্ট ইব্রাহিম খলিল আল জায়েদ, রোটারিয়ান হাফিজ ইউ বিপ্লব এবং বিভাগীয় গভর্ণর নমিনী রোটারিয়ান শহিদুল বারী প্রমুখ।

র‌্যালির শেষে হেপাটাইটিস বি সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য একটি স্ক্রিনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পটিতে প্রায় শতাধিক রোটারিয়ানের রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

উল্লেখ্য এই রোটারী বছরে প্রায় ১ লক্ষ মানুষের হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং এবং প্রায় ১০,০০০ মানুষকে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনায় রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর রোটারিয়ান আশরাফুজ্জামান নান্নুর।

পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৫.৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত যারা লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে আছেন। বাংলাদেশে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের প্রধান কারন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এদেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সার এই ভাইরাসটির কারনেই হয়ে থাকে।

এদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোয় যে মানুষগুলো প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন তাদের ১০ থেকে ১২ শতাংশ লিভার রোগে আক্রান্ত, যার বেশিরভাগই আবার হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত লিভার রোগ। শুধু তাই নয়, আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোর মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোয় প্রতি বছর যে হতভাগ্য রোগীরা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের এক তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারন এই লিভার রোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী কোভিড পূর্ববর্তী সময়ে এদেশে প্রতি বছর ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতেন। লিডার রোগে আক্রান্ত হয়ে এদেশে যে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ যে শুধু মৃত্যুবরনই করছেন তাই নয়, এদেশে লিভার রোগের কারনে প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থও। একটি গবেষনায় দেখা গেছে এদেশে ১০ লক্ষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পেছনেই ব্যয় হয় কম করে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইভাবে হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ৫০ শতাংশ বাংলাদেশের নাগরিকের চিকিৎসার ব্যয় গিয়ে দাড়াবে ৩ বিলিয়ন ডলারে।

এমনি বাস্তবতায় পৃথিবীর আর সব দেশের মত বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নির্মূলের সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল ৩.৩ অর্জনে অঙ্গিকারবদ্ধ। হেপাটাইটিস বি নির্মূলের এসডিজি গোলটি অর্জন করতে হলে সবার আগে জোর দিতে হবে জনসেচতনতা তৈরীতে আর ব্যাপকভিত্তিক স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোগী শনাক্ত করায়। বিশ্বব্যাপী রোটারী ক্লাবগুলোর সহযোগিতায় যেভাবে পোলিও নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিলো, তেমনি ঠিক এর-ই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের রোটারী ক্লাবগুলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশে হেপাটাইটিস-বি নির্মূল করা সম্ভব যেটি পরিচালনা করবেন ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর রোটারিয়ান আশরাফুজ্জামান নান্নু এবং ডিস্ট্রিক হেপাটাইটিস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল এর নেতৃত্বে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের একদল লিভার বিশেষজ্ঞ ও উদ্যমী রোটারিয়ান। একদিন হয়তো সমগ্র পৃথিবী থেকে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসটি নির্মূল হয়ে যাবে আর পথিকৃৎ হয়ে থাকবে বাংলাদেশের রোটারিয়ানরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ