নদীভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২০ ডিসে ২০২২ ০৬:১২

সুরমাভিউ:-  সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া, পীরপুর, গরিপুর (বর্তমান প্রস্তাবিত ৩৯নং ওয়ার্ড) গ্রামের মানুষদের রক্ষা করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন বাসদ সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ বলেছেন নদী ভাঙন রোধে দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গ্রামগুলো অস্থিত্বহীন হয়ে পড়বে।

নদীভাঙ্গনের কবল থেকে সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া, পীরপুর, গরিপুর (বর্তমান প্রস্তাবিত ৩৯নং ওয়ার্ড) গ্রামের মানুষদের রক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন এবং সিলেট অঞ্চলে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, নদী-খাল-জলাশয় দখল-ভরাট বন্ধের দাবিতে বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশল বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানকালে এই দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশল এস এম শহিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে আনেন এবং বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন। প্রধান প্রকৌশল এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এরমধ্যে নদী ভাঙ্গন এলাকাটি পরিদর্শনে যাবেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর, জেলা সদস্য জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী সুমন, প্রণব জ্যোতি পাল,  এলাকাবাসীর পক্ষে কামাল উদ্দিন, আবুল খয়ের, আবু তালেব, ছাব্বির আহমেদ, বাসদ টুকেরবাজার এলাকায় সংগঠক আনোয়ার হোসেন, শ্রমিক নেতা জাবেদ আহমদ, শহিদুল ইসলাম, হারুন আহমেদ প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন থেকে সুরমা নদীর ভাঙ্গনে টুকেরবাজার এলাকার(বর্তমান ৩৯নং ওয়ার্ড) পীরপুর, শেখপাড়া, গরিপুর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে এসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজারসহ কয়েক শত বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং কয়েক শত পরিবার নদী ভাঙ্গনে হুমকির মধ্যে আছে।অতীতে এসব গ্রাম নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষার জন্য তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

অবিলম্বে শেখপাড়া পীরপুর,গরিপুর গ্রাম কে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য শুস্ক মৌসুমের শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এবছর ইতিহাসের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় সিলেট অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বন্যা প্রাকৃতিক হলেও দুর্ভোগের জন্য দায়ী মনুষ্য সৃষ্ট কারণ। গত ৫০ বছরে দূষণ, ভূমিদস্যুদের আগ্রাসন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নগরায়ন, আবাসন, সেতু, কালভার্ট ও সুইসগেট নির্মাণের ফলে দেশের সহস্রাধিক নদ-নদী বিলীন হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় থাকা মোট ৩৮৩টি নদীর অনেকগুলোর অবস্থাও সংকটাপন্ন। বক্তারা সিলেট অঞ্চলের নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং করা, অপরিকল্পিত নগরায়ন-উন্নয়ন বন্ধ, নদী-খাল-জলাশয় দখল-ভরাট সহ প্রকৃতি বিনাসী সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান  আহ্বান জানানো হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ