মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনবে : মাহবুবউল আলম হানিফ

প্রকাশিত:সোমবার, ১৪ মার্চ ২০২২ ০৮:০৩

মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনবে : মাহবুবউল আলম হানিফ

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে আগামী দিনেও শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়।

সোমবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বাংলাদেশ চরম দারিদ্রশীল দেশ ছিলো। দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিলো, সেই খাদ্য ঘাটতি পূরণ করছেন শেখ হাসিনা। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফূলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দরের মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

এসময় বিএনপি-জামায়াতের লোক নিয়ে দল ভারী করার দরকার নেই বলে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেন হানিফ। বলেন, অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রশ্রয় দেয়া বিরত থাকুন। নতুন করে আওয়ামী লীগে অন্য দলের মানুষ প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের দল। যে ভোট আছে মানুষের কল্যাণে কাজ করে সেই ভোট ধরে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। যাতে মানুষের মনে কষ্ট না হয়। আর তাহলেই মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনবে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। এই আদর্শ ধারণ করে এক পরিবারের সদস্য হিসেবে হিসেবে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসতে হবে। জাতির পিতার আত্মত্যাগ স্বার্থক হবে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে ময়দানে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে উল্লেখ করে হানিফ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধেু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়ার আগেই একাত্তরের পরাজিত সৈনিকরা তাকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ড ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিলো না। এ হত্যাকাণ্ড ছিলো একাত্তরের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ। যারা আমাদের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এর পিছন থেকে চক্রান্তকারীদের সাথে হাতে হাত মিলিয়েছিলো জিয়াউর রহমান। যা ইতিহাসে পরিষ্কার। তারা কখনো মনে প্রানে চায়নি বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এবং তারা এখনো চায় না। যার কারণে বারবার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান, এরশাদ সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে উল্টো দিকে নিয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারা নিয়ে গেছে। ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে জয় বাংলা শ্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জ্বীবিত করেছিলো। আর সেই জয় বাংলা রাজাকার-আলবদরদের জন্য ছিলো আতঙ্ক। জয় বাংলা স্লোগান বাদ দিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বেছে নিয়েছিলেন।

‘যারা জামায়াতের রাজনীতি করে তারা এখনো মনে প্রাণে পাকিস্তানি উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ২০১৩ সালে যখন কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় হলো সেই সময় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান সেসময় দাবি করেছেন, কাদের মোল্লার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের সৈনিক ছিলেন। একাত্তর সালে রাজাকার ছিলো স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও পাকিস্তানের সৈনিক ছিলো। একইভাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ তাদের যখন রায় কার্যকর হলো পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। নিজামীকে সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব দেয়া হয়েছে। কি গভীর সম্পর্ক তাদের। এর মধ্যে প্রমাণিত হয় যারা জামায়াতে ইসলামী তারা এখনো পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছে, সৈনিক হিসেবে কাজ করছে।’

 

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপি নেতারা বলছেন- নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। এসব বলার কারণ বিএনপি জানে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে সক্ষমতা নেই। তাদের দলের শীর্ষ দুই নেতা দন্ডপ্রাপ্ত। একজন বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় কারাঘার থেকে বাসায় আছেন। আরেকজন শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। যিনি ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন বানিয়ে হত্যা, সন্ত্রাস, লুটপাট করে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের চারণভূমি বানিয়েছেন। তিনি এখন এখন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক। যে দলের দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শীর্ষ নেতা নির্বাচন করতে পারবে না সে দলের ভবিষ্যৎ কী থাকতে পারে? তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি না ভাবাটাই স্বাভাবিক।

হানিফ বলেন, তারা (বিএনপি) জানে নির্বাচনে আসলে ২০১৮ সালের মতো তাদের লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই তারা এখন ষড়যন্ত্র করছে। বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। দেশ রসাতলে চলে যাক তবুও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক এটা তারা চায় না। তারা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কারণ এটা করলে তাদের প্রভু পাকিস্তান সন্তুষ্ট হবে। তারা ২০১৫ সালে পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষকে হত্যা করেছে। এসব অপকর্মের কারণে আজ তারা জনবিচ্ছিন্ন। এখনো তারা ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ।