কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও’র দুর্ব্যবহারে কাঁদলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রু ২০২২ ০৭:০২

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও’র দুর্ব্যবহারে কাঁদলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:-  সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং এর দুর্ব্যবহারে কাঁদলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তান। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ইউএনও এর অফিসে এই ঘটনা ঘটে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিব ২০২১ সালের জুন মাসে মারা যান। মুক্তিযোদ্ধা কেউ মারা গেলে সরকার তাঁর দাফনের জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন-কাফনের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিবের পরিবারের কেউ পায়নি। বিষয়টি অবগত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কেন তারা অফিসে ঢুকলেন এবং চেয়ারে বসলেন তার জন্য ইউএনও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তারা অফিস থেকে বেরিয়ে অঝোরে কান্না করতে করতে বলেন যারা বাংলাদেশ স্বাধীন করলো তাদেরই আজ সম্মান নাই। তাদের কথা বলতে গেলে ইউএনও অফিস থেকে তাড়িয়ে দেয়।

এর আগেও সাধারণ মানুষের সাথে ইউএনও’র দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি কোম্পানীগঞ্জে যোগদানের ১৫দিনের মাথায় টুকের গাঁওয়ের নবি হোসেন নামে এক ব্যক্তি সরকারি ঘরের আবেদন নিয়ে গিয়ে ছিলেন তার অফিসে। তিনি তাকে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেন। সাধারণ মানুষের সাথে ইউএনও এর এমন ব্যবহারে ক্ষুব্ধ উপজেলার বাসিন্দারা।

ঘটনার সময় ইউএনও অফিসে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানের সাথে ইউএনও সাহেবের এমন ব্যবহার গ্রহনযোগ্য নয়। আগের ইউএনও সুমন আচার্য শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তার ব্যবহার অত্যান্ত ভালো ছিল। ধনী গরীব সবার সাথে তার ব্যবহার ছিল সমান। যে কেউ তাঁর অফিসে গিয়ে সমস্যার কথা বলতে পেরেছে। ইউএনও সাহেবের অফিসে গিয়ে সাধারণ মানুষ কথা বলতে না পারলে কার কাছে বলবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিবের ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে সরকার যে দাফন-কাফনের টাকা দেয় সেই টাকা আমরা পাইনি। ইউএনও অফিস থেকে জানতে পারি আমার বাবার দাফন-কাফনের টাকা টিপসই দিয়ে কে উঠিয়ে নিয়েছে। এই টাকা আমাদেরকে না দিয়ে কাকে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি অবগত করার জন্য আমার মাকে নিয়ে আমি ইউএনও অফিসে গিয়েছিলাম। অফিসে গিয়ে চেয়ারে বসার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন কি কারণে অফিসে গেলাম। আমরা বিষয়টি বলতেই তিনি বলেন আমাদের কোন কমনসেন্সে নেই। কখন অফিসে ঢুকতে হয় তা জানিনা। অফিসে কত গোপনীয় কাজ থাকতে পারে তা না জেনেই অফিসে ঢুকে গেলাম চেয়ারেও বসে গেলাম। উচ্চস্বরে ধমক দিয়ে তিনি অফিস থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার কাম্য নয়। আমি বিষয়টি দেখছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ