চাঁদাবাজী, প্রতারণা ও টাকা আত্মসাত মামলায় কারাগারে কাউন্সিলর শানু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৫ জানু ২০২২ ১০:০১

সুরমাভিউ:-  সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর আলোচিত শাহানা বেগম শানুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। চাঁদাবাজী. প্রতারনা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ২৪ লাখ টাকা আত্মসাত করে একটি বাসা দখল ও মালিককে প্রাননাশের হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চআদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় তাকে মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বজলুর রহমান।

কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু সিলেট নগরীর শেখঘাট খুলিয়া পাড়ার নিলিমা ৫২/৪ নং বাসার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি খুলিয়া পাড়ার নিলিমা ৫নং বাসায় বসবাস করছেন।
কাউন্সিলর শানু সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তিনি উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুদিন পর আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন।

জানা যায়, আপন ভাসুর ও অপর এক ব্যক্তির সাথে প্রতারণার অভিযোগে কাউন্সিলর শানুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন কাউন্সিলর শানু। জামিনের মেয়াদ দুদিন আগে শেষ হওয়ার পর তিনি আদালতে আত্মসর্মপণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, খুলিয়াটুলা নীলিমা ১৩নং বাসার মুকিত মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু ও তার ছেলে মো. রায়হান ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা, টাকা আত্মসাত, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। কোতোয়ালী সি আর মামলা নং ৯২৮/২০২১ এবং কতোয়ালী জি আর নং ৮৬৭/২১।

মামলার অভিযোগসূত্রে জানা যায় কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু ও তার ছেলে মো. রায়হান ইসলাম মামলার বাদী নুরুল ইসলামের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজা হোন। নুরুল ইসলাম সিলেট মিউনিপ্যাালিটি মৌজার জেএল নং ৯১ খতিয়ান নং ১০৪৩ এস এ দাগ নং ৩৭৮৮। ডিপি খতিয়ান নং ১২৩২৭ বি এস দাগ নং ২৬০৩৬ দাগের ৪শতক ভূমিতে স্থাপিত দুতলা ভবনের বন্ধকীসূত্রে মালিক হোন। উক্ত ভবনের ২য় তলায় নুরুল ইসলাম তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু ও ভাতিজা মো. রায়হান ইসলামকে বিনা ভাড়ায় থাকতে দেন। নুরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শানু ও ভাতিজার কাছ থেকে ১১লাখ টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে আর্থিক অসুবিধার কারণে মামলার ১নং স্বাক্ষী গোলাপগঞ্জের লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী লোকমান হোসেনের কাছে উপরোক্ত দুতলা বিশিষ্ঠ ভবন বিক্রির জন্য ৬৫ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। পাশাপাশি ক্রেতা লোকমান হোসেনের কাছ থেকে বাসার মূল্য ৬৫ লাখ টাকা থেকে প্রায় অর্ধেক টাকা গ্রহণ করেন নুরুল ইসলাম। এক পর্যায়ে আসামীরা তাদের পাওনা ১১ লাখ টাকা সহ ২৪ লাখ টাকা বাদীর কাছে দাবি করে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাতে রাজী হয়ে লোকমান হোসেনকে বাসা বিক্রির টাকা থেকে আসামীদের ২৪ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন নুরুল ইসলাম। ২০২১ সালের ১৯ জুলাই একটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আসামীদের ২৪ লাখ টাকা প্রদান করেন লোকমান হোসেন। চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয় আসামীরা সাময়িক অসুবিধার জন্য বাসা ছাড়তে অসুবিধা হচ্ছে বিধায় ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার দ্বিতীয় তলার বাসাটি ছেড়ে যাবেন। এ ব্যাপারে বাদীর নিকট থেকে উপরোক্ত ভূমি ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ লোকমান হোসেনের কাছে আসামীদের আর কোন দাবি দাওয়া নেই। চুক্তি পত্রে আসামীরা ও বাদীর পক্ষে লোকমান হোসেন স্বাক্ষর করেন। ২০২১ সালের ২৫ জুলাই জনপপ্রতিনিধি সহ সালিশ ব্যক্তিত্বরা স্বাক্ষী হিসেবে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বাসা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাদী ও ১নং স্বাক্ষী লোকমান হোসেন ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে আসামীদের বাসা ছাড়ার ব্যাপারে কথা বললে কাউন্সিলর শাহানা ও তার ছেলে রায়হান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তারা ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ, চুক্তিনামা ও বাসা ছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো বাসা ছাড়তে হলে আরো ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ অবস্থায় বাদী নুরুল ইসলাম ১নং স্বাক্ষী লোকমান হোসেন, ২নং স্বাক্ষী কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান ও ৩নং স্বাক্ষী বিশ্বনাথের সাবেক এমপি এহিয়া চৌধুরীর ছোট ভাই ফহল আল রাজী চৌধুরীকে নিয়ে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর কাউন্সিলর শাহানা বেগমকে বাদীর বাসা ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উক্ত নারী কাউন্সিলর। তিনি গালিগালাজ করে রান্নাঘর থেকে বটি দা এনে বাদী নুরুল ইসলামের গলায় ধরে পুনরায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন চাঁদা না দিলে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে ফেলবেন। উত্তেজনাপূর্ণ এ পরিস্থিতি থেকে স্বাক্ষীরা নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এসময় বাদীকে পূণরায় কোন দাবি নিয়ে আসলে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেন কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ