ভিসি’র অপরাধ কি ? -সুজাত মনসুর

প্রকাশিত:সোমবার, ২৪ জানু ২০২২ ০৮:০১

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন এখন অনশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। আন্দোলনের পক্ষে অনেকেই কথা বলছেন। ভিসির পদত্যাগকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন। শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এই দাবিকে অযৌক্তিক বিবেচনায় সমাধানের পথ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। আন্দোলনরত ছাত্ররা এতোটাই বেপরোয়া যে ভিসির বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মত অমানবিক ও বেআইনি কাজ করতেও দ্বিধা করেনি। এখন নাকি তারা সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্বও পালন করছে। তাদের সাথে সংহতি জানাতে ও চিকিৎসা করতে ঢাকা থেকে বিএনপির ডাক্তার ছুটে এসেছে। কেন সিলেটে কি ডাক্তার নেই? ওরা কি চিকিৎসা পাচ্ছে না? আসলে চিকিৎসার আড়ালে ষড়যন্ত্র করতে এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে ভিসির অপরাধ কি? আন্দোলন ছিল প্রভোস্টের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে। পদত্যাগ হয় স্বেচ্ছায় আর অপসারণ করে কর্তৃপক্ষ। অপসারণ করতে হলেও একটা প্রক্রিয়া মেনে করতে হয়। সেজন্য সময় লাগে। আর পদত্যাগ যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময় করতে পারেন। ইতোমধ্যে সে প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন।

১৩ জানুয়ারি রাতে একটি হলের ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে। কিন্তু দু’দিন না যেতেই কথা নেই, বার্তা নেই ভিসিকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হলো একটি ভবনে। যা বেআইনী ও ফৌজদারি অপরাধ। পুলিশ দায়িত্ববোধ থেকেই হোক কিংবা ভিসি নিজের জীবন বাঁচাতেই হোক পুলিশ কল করায় পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। এই উদ্ধার অভিযানে পুলিশ যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তার তদন্ত করে বিচার হওয়া উচিত। আর ছাত্ররা যদি বাড়াবাড়ি করে সেটারও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একজন মানুষ তাঁর জীবন বাঁচাতে পুলিশের সহায়তা চাইবেন সেটাই স্বাভাবিক। অব্যদিকে পুলিশ তার দায়িত্ববোধ থেকে রাষ্ট্রের একজন নাগরিককে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করবে সেটাও স্বাভাবিক। জীবন বাঁচানো কি অপরাধ? সেজন্য ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে কেন? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা ঠিকই বলেছেন এটা হলো শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কথাও ঠিক। ভিসির পদত্যাগ দাবি অযৌক্তিক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ