জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন

প্রকাশিত:সোমবার, ১৭ জানু ২০২২ ০৮:০১

সুরমাভিউ:-  আসন্ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সিলেট জেলা শাখার কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাবেক ছাত্রদলনেতা কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন। তিনি (১৭ জানুয়ারি) সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান।

কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন বিবৃতিতে বলেন, “আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবীত হয়েই ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত হই।

ছাত্র রাজনীতিতে ফাহিম- আলী কমিটিতে আমি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সদস্য ছিলাম, পরে যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম। পরবর্তীতে আমি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে জেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করি।

ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে প্রতিযোগিতা করেছি কিন্তু কখন ও প্রতিহিংসায় জড়াইনি। তবে আমি সবসময় প্রতিহিংসার ও গ্রুপিং  শিকার হয়েছি।

বিএনপির রাজনীতিতে গুম হওয়া আমাদের নেতা, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর কমিটিতে সদস্য ছিলাম, আবুল কাহের চৌধুরী শামিম ও আলী আহমদ এর কমিটিতে আমাকে সদস্য পদে রাখা হয়। অথচ আমাকে বাদ দিয়ে বর্তমান জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান দেওয়া হয় অনেককেই, কিন্তু জানিনা কোন এক অদৃশ্য কারণে আমাকে এই সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে রাখা হয় নাই। অথচ আমার ত্যাগ, সংগ্রাম নেতৃত্ব কোনো অংশে কারো চেয়ে কম নয়।

আমি বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম। দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় । ভবিষ্যতে দল যদি কোনো জায়গায় নির্বাচনের সুযোগ করে দেয় তাহলে আমি নির্বাচন করবো।

আপনারা দলীয় নেতাকর্মী সহ সিলেটবাসী অবগত আছেন স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে এবং বর্তমান ফ্যাসিস্ট ও নিশিরাতে সরকারের কাছে অনেকবার কারাবরণ ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হই। আমি ২০১৩/১৪ সালের সবচেয়ে বেশি আন্দোলন  ছিল তখন আমার ব্যবসায়িক পারিবারিকভাবে ও পুলিশি গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হই এবং বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পুলিশি হামলা ও মামলার শিকার হই। শাবি নামকরন বিরোধী আন্দোলনে ও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বর্তমানে গণতন্ত্র প্রতিষ্টায়, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সম্মুখসারিতে আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়া রহমান জাতীয়তাবাদী দল সৃষ্টি করেছেন। যদি শহীদ জিয়া রহমান  সৃষ্টি না হতেন তাহলে বাংলাদেশ জন্ম হতো না। আজ আমাদের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় আছেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক আগামী দিনের কান্ডারী জনাব তারেক রহমান বিভিন্ন মিথ্যা মামলার জর্জরিত অবস্থা দলকে প্রবাসে থেকেও  সংগঠিত করছেন। আমি উনার নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানাই এবং আগামী প্রত্যেকটি আন্দোলন কাফেলায় অগ্রভাগে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

সারাদেশে বিএনপির নেতৃত্ব গঠন করা হচ্ছে সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দকে দিয়ে, আমি আশা করি সিলেটে ও সাবেক ছাত্রদল নেতাদের হাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। কাউন্সিলে ভোটারদের সরাসরি ভোটে যদি নেতৃত্ব বাচাই করা হয় তাহলে ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। যাদের আন্দোলন সংগ্রামে পেয়েছেন এবং দলের দূর্দিনে যাদেরকে পেয়েছেন তাদের কে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বাবা মৃত মজির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করেছেন। আমরা তিন ভাই এক বোন। সিলেট নগরীর ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই চাসনি পীর মাজার রোড এলাকায় আমার বাসা। আমার বাসাটি নেতাকর্মীদের জন্য অতীতে যেমন খোলা থাকতো, বর্তমানে ও  খোলা রয়েছে। আপনাদের সুবিধা অসুবিধায় আমি কামরুল হাসান চৌধুরী শাহিন পাশে আছি, থাকবো।
পরিশেষে আমি সিলেট জেলা বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী, আপনাদের সুচিন্তিত রায় প্রত্যাশী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ