ছাতক-দোয়ারা সড়কে এক সাথে নির্মিত হচ্ছে ৯টি সেতু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ৩১ আগ ২০২১ ০৮:০৮

হাসান আহমদ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সড়কে এক সাথে ৯টি সেতুর কাজ চলছে। সেতুগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ’ ১১ কোটি টাকা। গোবিন্দগঞ্জ-থেকে দোয়ারা বাজার পর্যন্ত নির্মানাধিন সেতুগুলোর মধ্যে ৬টির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৩টি সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের দিক দিয়ে অনেকটা ভোগান্তি দূর হবে। চরম দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে মানুষ। নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন।

জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে ছাতক পৌরশহর। ছাতক উপজেলাটি শিল্পনগরী হিসেবে খ্যাত। সুরমা নদীর দু’তীরের বসবাসকারীদের নিয়ে ছাতক পৌরসভা গঠিত হয়েছে। পৌরসভা ও সুরমা নদীর দু’তীরে রয়েছে একাধিক শিল্পকারখানাসহ সরকারী প্রতিষ্ঠান। সুরমা নদীর অপারে লাফার্জ হোলসিম এলাকা থেকে সুরমার কূল ঘেঁষে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সাথে সংযুক্ত সড়ক। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সরু ব্রিজ ও দোয়ারাবাজার সড়কে একাধিক বেইলী ব্রিজ ছিল। চলাচল অনুপযোগি ব্রিজগুলো দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল করতেন। সম্প্রতি সময়ে মাল বোঝাই ট্রাক একটি বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনায় এক ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছিল। তখন বিকল্প রাস্তায় মালবাহী ট্রাকসহ যানবাহন নিয়ে চলতো মানুষ। সড়কের অন্যান্য ব্রিজগুলো ছোট ছিল। যানবাহনের চাঁপে কয়েকটি ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে খাদে পড়েছে। দূর্ভোগের যেন অন্ত ছিলনা। এসব বিষয় নিয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি পড়ে। পরে গোবিন্দগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কে ৯টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জামিল ইকবাল লিমিটেড, রানা বিল্ডার্স লিমিটেড ও জনজেবী প্রাইম লিমিটেড নামে তিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথক তিনটি প্যাকেজে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। তৈরি করা হয় যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প বেইলী ব্রিজ ও সড়ক। দীর্ঘ ভোগান্তির পরে হলেও সড়কে সেতু নির্মাণ হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের মানুষ।

ছাতক পৌরশহরের নোয়ারাই বাজারের ব্যবসায়ী, সুনামগঞ্জ জেলা রড-সিমেন্ট মার্চেন্ট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ বলেন, গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ন ছিল। এ সড়কে মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হতো। তিনি বলেন, সড়কে নির্মানাধিন সেতুগুলোর কাজ শেষ হলে সড়ক পথে পরিবহনে ঝুঁকি থাকবে না। উন্নত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা, প্রগতি পরিবহন গ্রুপের ট্রাক চালক খালেদ আহমদ বলেন, এ সড়কে এক যুগ ধরে বিভিন্ন কোম্পানীর ট্রাকের মাধ্যমে তিনি লাফার্জ হোলসিমের সিমেন্ট পরিবহন করে আসছেন সারা দেশে। ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ছোট ছোট ব্রিজগুলো ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতেন। নতূন সেতু নির্মাণ হওয়ায় ঝুঁকি কমে আসছে। কিন্তুু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সড়কে নির্মাণ করা বিকল্প রাস্তা ও বেইলী সেতুগুলোর এ্যাপ্রোচ টেকসই হয়নি। ছোট বড় অসংখ্য গর্ত রয়েছে এ্যাপ্রোচে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা বি”িছল হয়ে যায় এবং দূর্ঘটনার আশংষ্কা রয়েছে।

ছাতক প্রেসক্লাব সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, দুই আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য এখানের বালু ও পাথর ব্যবসা। এছাড়া বিভিন্র কল-কারখানা গড়ে উঠায় ছাতক শহরটি সারা দেশে বেশ পরিচিতি লাভ করে। সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে এ উপজেলা থেকে সরকার অধিক রাজস্ব পায়। তিনি বলেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সড়কের ব্রিজগুলো ছিল নড়েবড়ে অবস্থায়। বর্তমানে এ সড়কে এক সাথে ৬টি ও দোয়ারাবাজার সড়কে আরও ৩টি সেতু নির্মাণসহ সুরমা নদীর উপর নির্মানাধিন সেতুটি উদ্বোধন হলে ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসী যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নতি হবে। এ জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ছাতকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ আহমদ সিদ্দিকী বলেন, ১শ’ ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পৌরশহর পর্যন্ত মোট ৬টি ও সুরমা নদীর অপারে দোয়ারাবাজার সড়কে আরও ৩টিসহ মোট ৯টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬টি সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ছাতকের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম জানান, তকিপুর, হাসনাবাদ, মাধবপুর, টেঙ্গারগাঁও, লক্ষিভাউর ও ˆননগাঁও ৬টি সেতুর মূল কাজসহ এ্যাপ্রোচের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। শুধু রঙের কাজ বাকী আছে। এসব সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলছে যানবাহন। এছাড়া গড়গাঁও, পেপারমিল ও রহমতভাগের তিনটি সেতুর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে তিনটিসহ মোট ৯টি পিসি গার্ডার সেতুর যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ