বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে : নির্মল রঞ্জন গুহ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৬ আগ ২০২১ ০৯:০৮

সুরমাভিউ:-  সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের অনুগত দোসররা ঐ জগন্যতম হত্যাকান্ডগুলো ঘটিয়েছে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন ইতিহাস।

নির্মল রঞ্জন গুন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেক সুশিক্ষিত, তারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে তারা অনুভব করতে পারে। নতুন প্রজন্মরা জানে এই  দেশের রুপকার, অবদান, ত্যাগ সবচেয়ে বেশি বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজাপুর এসেছিলেন ১৯৭০ সালের  ৯ অক্টোবর। তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহারাজ মিয়ার এই বাড়িতে নোঙর করে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী লঞ্চ তিতাস। সেদিন ছিল শুক্রবার। পার্শ্ববর্তী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন বঙ্গবন্ধু। বাংলোতে বিশ্রাম নেন ও দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। এরপর এখানে এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন। দুর্গম হাওর এলাকায় বঙ্গবন্ধুর এই আগমন এলাকাবাসীকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখতে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধনের মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

হাওরের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর সেই সফরকে স্মরণীয় করতে বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে দুর্গম হাওরে বঙ্গবন্ধু শিরোনাম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, দেশের মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকরা হত্যা চেষ্টা চালিয়েছিলো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মহিমায় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মানব দেয়ালের ফলে ২০০৪ সালের সেই ভয়াবহ ২১ আগস্টে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারেনি। ষড়যন্ত্রকারীরা পারেনি বলেই আজ বিশ্বের রোল মডেল রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ পরিচিত লাভ করেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে ঘাতকেরা এ দেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তাই ঘাতকেরাও থেমে থাকেননি। তাঁরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাতেও তাঁরা সফল হননি। আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন কর্মীও বেঁচে থাকলে ওই ঘাতকদের চেষ্টা কোনদিনও সফল হতে দেওয়া হবে না।

এসময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, উপ-পানি বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. কামাল উদ্দিন, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট শাহাদাত বরণকারীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ