২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৩ ইং
প্রকাশিত:রবিবার, ০১ আগ ২০২১ ১১:০৮
সলমান চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টার – সিলেটে ইবনে সিনার বিরুদ্ধে ভূল প্রশ্রাব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিলেও ল্যাবের দ্বায়িত্বে থাকা প্যাথলজিষ্ট বলছেন রিপোর্ট সঠিক।
জানা যায়,গত ১ জুলাই তলপেটে ব্যাথা অনুভব করলে প্রশ্রাব পরীক্ষা করান তাসনুভা নামে এক নারী। এরপর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রশ্রাবে ইনফেকশন ধরা পড়ে। সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করে ব্যাথা এবং ইনফেকশন থেকে মুক্তি পান তিনি।
এরপর গত কয়েকদিন থেকে ব্ল্যাড প্রেশার ও জ্বর অনুভব করলে পারিবারিক ডাক্তারের পরামর্শে আবারো (২৫ জুলাই) প্রশ্রাব পরীক্ষা করান সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এবং কনসালটেন্ট সেন্টারে। পরীক্ষার রিপোর্টে প্রশ্রাবে বেশ মারাত্মক ইনফেকশন ধরা পরে। রিপোর্ট দেখে সাথে সাথে পারিবারিক ডাক্তারের পরামর্শে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ ফয়সাল আহমদের কাছে যান। তিনি রিপোর্ট এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার সাথে মিল না পাওয়ায় আম্বরখানাস্থ মালিক কম্পেথ ডায়াগনষ্টিকে প্রশ্রাব পরীক্ষা ও কালচার পরীক্ষা করতে দেন।
পরদিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রশ্রাব পরীক্ষা করে রিপোর্টে কোন ইনফেকশন ধরা না পড়ায় বেশ চিন্তায় পড়ে যান রোগী। এরপর রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাথে সাথে ন্যাশনাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারো টেষ্ট করান। তাতেও কোন ইনফেকশন ধরা পড়ে নি।
এরপর দিন পুনরায় স্ব-ইচ্ছায় একই প্রশ্রাব দিয়ে কমফোর্ট ডায়াগনষ্টিক,ইবনে সিনা সোবহানী ঘাটস্থ শাখা এবং রিকাবী বাজার শাখায় পরীক্ষা করতে দিলে রিপোর্ট আসে কাছাকাছি। এ নিয়ে বেশ রহস্যের জন্ম দেয় ইবনে সিনার প্রথম রিপোর্ট।
কথা হয় ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের প্যাথলজিষ্ট প্রফেসর ডাঃ সুচনা নাজরিনের
সাথে। তিনি জানান, আমাদের (ইবনে সিনার) রিপোর্ট সঠিক। আমাদের রিপোর্টে কোন ত্রুটি নাই। তিনি আরো জানান, আমরা মেশিনের মাধ্যমে টেষ্ট করি,আমাদেরকে মেশিন যা রিপোর্ট দিচ্ছে তাই আমরা দিচ্ছি। তাছাড়া অনেক সময় প্রশ্রাব দেখেই আমরা বুঝতে পারি ইফফেকশন আছে কি না,এই রোগীর ক্ষেত্রেও আমরা দেখে বুঝেছি বেশ ইনফেকশন আছে।
এই ব্যাপারে হয়রাণির শিকার হওয়া নারী জানান,আমি ইবনে সিনার একজন কর্পোরেট গ্রাহক হিসেবে প্রায় বছরখানেক থেকে সকল ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরিক্ষা ইবনে সিনায় করে আসছি। কিন্তু গতদিনের এমন রিপোর্ট দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়ে গেছিলাম। তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের সাথে দেখা করে আমি বুঝতে পারলাম আমার রিপোর্ট সঠিক নয়।
তিনি আরো জানান, চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন রিপোর্ট অনুযায়ী আমি এইভাবে সুস্থ থাকার কথা না। আমার কাপুণি জ্বর এবং তলপেটের ব্যাথায় কাতরাণোর কথা কিন্তু কিভাবে আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ আছি।
চিকিৎসক আমাকে মেডিসিন দিয়েছেন কিন্তু ভূল রিপোর্ট আসায় আমি নিজ ইচ্ছায় মেডিসিন নেই নি। এইভাবে যদি মানুষের বিশ্বাস আর আস্থা নিয়ে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলো প্রতারণা এবং হয়রাণি করে তাহলে কোথায় গিয়ে সেবা পাবে? টাকা দিয়ে পরীক্ষা করছি কিন্তু ভূল রিপোর্ট দিয়ে মানষিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে। এইসব দেখার কি কেউ নেই?
এ ব্যাপারে সিলেটের বেশ কয়েকজন সিনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল প্যাথলজিষ্ট ও ল্যাব টেকনোলজিষ্ট জানান, কখনোই একদিনের ব্যবধানে রিপোর্টের এমন তারতম্য হওয়ার কথা না। নিশ্চয়ই এইখানে ল্যাবের কোন ত্রুটি ছিল।
ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান,অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
Helpline - +88 01719305766