আমার আওয়ামীলীগে যোগদানঃ পটভুমি, কারন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

প্রকাশিত:শনিবার, ০৩ জুলা ২০২১ ০১:০৭

পটভুমিঃ

জাতীয় নেতা সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জননেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৭২ সনে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রী থাকাকালীন যখন জগদলে হেলিকপ্টার যোগে আসতেন, সাথে বিদেশ থেকে আসা সাহায্য উন্নতমানের গুড়ো দুধ নিয়ে আসতেন যা সুপেয় পানির সাথে মিশিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে বণ্টনের দায়িত্ব মাঝে মধ্যে আমি পালন করতাম। স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় এর অগ্রভাগে থেকে পরিচালনা করতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের আমার বাড়িতে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করতাম। গ্রমের চার বন্ধু মিলে ১১/১২ বছর বয়সে নিজেরা মুক্তিযোদ্ধাদের বন্দুক নৌকা থেকে বহন করে ক্যাম্পে পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করতাম। মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ধরে আনলে এদের আটকে রাখার কাজে তাঁদের সাহায্য করতাম।মুক্তিযুদ্ধকালে আমার দাদী বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য রোজা রাখতেন। উনসত্তুরের গনঅভ্যুত্থানের সময় ক্লাস ফোর/ফাইভ এ থাকাকালীন বড় ছাত্ররা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিত দেখতাম, ভাল লাগত, কিন্তু অংশগ্রহণের সুযোগ ছিলনা। সেই থেকে মনে ও অন্তরে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ।

স্কুলে ছাত্র রাজনীতি ছিলনা। ১৯৭৫-৭৭ শিক্ষা বর্ষে সিলেট এম সি কলেজে অধ্যয়নকালে জিয়াউর রহমানের মার্শাল ল’ থাকায় রাজনীতি বন্ধ ছিল তাই রাজনীতির সুযোগ পাইনি। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র হিসাবে হল ছাত্রলীগে যোগ দিই। একই বছর হল ছাত্রলীগের কমিটিতে আমাকে’ শিক্ষা ও পাঠচক্র’ সম্পাদক হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। ১৯৮১ সনের কমিটিতে আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়। বি এ অনার্স ও এম এ পাশ করার পর ১৯৮৩ সনে আমি ৬ মাসের জন্য আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জননেতা জনাব ওবায়দুল কাদেরের এলাকার কলেজ বসুরহাট কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কাজ করি। অতঃপর ১৯৮৩ সনে বি সি এস (শিক্ষা) ক্যাডারে ১ বছর ৩ মাস যশোর সরকারি এম এম কলেজে ইতিহাসের প্রভাষক (প্রথম স্থান দখল করে) হিসাবে কাজ করার পর ১৯৮৪ এর সাধারণ বি সি এস পরীক্ষায় পাশ করে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারি কমিশনার হিসাবে যোগ দিয়ে ২০১৮ সনের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫বছর দেশপ্রেমিক আমলা হিসাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।

চাকুরীজীবনে যখন যেখানে সুযোগ ও ক্ষমতা পেয়েছি তখনই রুটিন দায়িত্বের বাইরে গিয়ে দেশপ্রেমের টানে কিছু অতিরিক্ত কিছু উন্নয়নমূলক ও সমাজ সেবামুলক কাজ করেছি। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক থাকাকালীন রুটিন দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কুমিল্লা শহরকে পরিচ্ছন্ন করেছি এবং ১৮ টি ফোয়ারা দিয়ে সাজিয়েছি,কুমিল্লার আলেখারচড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ করেছি, লেখাপড়ার গুনগত মান বৃদ্ধির জন্য অভিন্ন প্রশ্নে অষ্টম শ্রেণির পরিক্ষা ও টেস্ট পরিক্ষা নিয়েছি, সমগ্র জেলা থেকে কাঁচা পায়খানা দূরীভূত করে স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করেছি এবং কুমিল্লা শহরের একাংশ থেকে জলাবদ্দতা নিরসন করেছি। ফলাফল হিসাবে ২০০৬ সনে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রসশাসকের সম্মাননা লাভ করেছি। ২০১৪-১৫ সনে পাট অধিদপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসাবে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মির্জা আযমের উৎসাহে ও নির্দেশনায় সংশ্নিষ্ঠ সকলের সহযোগিতায় ২০১০ সালের পাট আইন বাস্তবায়নের জন্য পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগ এর পরিবর্তে ধান, চাল সহ ১০ টি পন্যে পাটের ব্যাগ এর ব্যবহার নিশ্চিত করে আরও অনেকের সাথে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেছি। কুমিল্লাতে ভাল কাজ করার কারণে সিনিয়র সহকর্মীরা আমাকে ভালবাসতেন বলে তাঁদের সহযোগিতায় আমার গ্রামে ২০ শয্যার হাসপাতাল, ২টি স্কুল ভবন, ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, তহসিল ভবন, রাজনগর গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, করিমপুর গ্রামে ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ২০০৭-০৮সনে দিরাই থেকে মদনপুর রাস্তা চওড়া করেছি। আওয়ামীলীগ আমলে জেলা প্রশাসক থাকলে আরও অনেক কাজ করতে পারতাম বলে আমি বিশ্বাস করি। কারন আওয়ামীলীগ প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের সরকার।

অনেকে আমাকে বি এন পি মনা ও বি এন পি আমলের প্রভাবশালী হিসাবে চিহ্নিত করেন। আমি আমার কাজের কারণে সব আমলেই প্রভাবশালী ছিলাম, না হয় দুই আমলে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার কথা নয়। অনেকে বি এন পি এর উচ্চ পর্যায়ের কিছু নেতার সাথে আমার ছবি দিয়ে বুঝাতে চান আমি ঐ দলের ঘনিষ্ঠ। এরা অনেকে বুঝে না বুঝার ভান করেন।কারণ ডি সি হিসাবে আমাকে সরকারের মন্ত্রীগণের সাথে ও ঊর্ধ্বতন সকলের সাথে সম্পর্ক রেখে চলতে হয়েছিল এবং এটাই স্বাভাবিক। আমলা হিসাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমি দেশের কাজ করেছি, দলের নয়। আমি ১৯৯৯ সনে বর্তমান মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জনাব এমরান আহম্মদ সাহেবের পি এস হিসাবে (তিনি তখন সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি) কাজ করেছি এবং সেখানেও মন্ত্রী মহোদয়ের সন্তুষ্টির সাথে দেশের কাজ করেছি।ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জ সমিতি একটি সামাজিক সংগঠন। এর সভাপতি হিসাবে সকল দল মতের মানুষকে নিয়ে কাজ করেছি এবং মাননীয় মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান মহোদয়ের সহযোগিতায় সংগঠনটিকে জীবিত করেছি এবং এর ফান্ডে আমি পদ ছেড়ে আসার সময় অফিস করার জন্য ২৫ লাখ টাকা রেখে এসেছি যা এই সংগঠনে কোন দিন হয়নি। সংঘঠনের সকল অনুষ্ঠানে জেলার সকল মাননীয় এম পি , মন্ত্রীগণকে দাওয়াত করেছি এবং জাতীয় নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে তাঁর উপযুক্ত সম্মান দিয়েছি।এই সংগঠনের সভাপতি হয়ে সূনামগঞ্জ জেলায় ২০১৪ সনে এস এস সি, এইচ এস সি, দাখিল ও আলিম পরিক্ষায় জি পি এ ৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দিয়েছি যা এর আগে কেউ কোন দিন ভাবেও নি। মাননীয় মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান সেখানে ও প্রধান অতিথি ছিলেন। ষড়যন্ত্রের কারণে ‘ণৌকা বাইচের’ মতো একটি বিশাল উদ্যোগ সফল করতে পারিনি। কারা ষড়যন্ত্র করতে পারে তা আশা করি অনেকেই বুঝতে পেড়েছেন। ভবিষ্যতে সময় সুযোগ পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবো।

চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর এলাকায় অনেক জনসংযোগ করেছি, যেখানে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সাধারন কর্মীও আমার সাথে ছিল আমাকে পরিচিত করার জন্য। ঐ সকল সভায় বা এর আগে বিভিন্ন সভায় আমি অবহেলিত দিরাই শাল্লার রাস্তা- ঘাট, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, হাওড়,নদি খনন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলেছি। এ ক্ষেত্রে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর উন্নয়ন সামনে এনেছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন তুলে ধরেছি। কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলিনি।

আওয়ামীলীগে আমার অনেক পূরানো সাথি ও বন্ধু আছেন যারা আমাকে আওয়ামীলীগে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছেন আর বলেছেন আমার পূরানো ঠিকানায় ফিরতে। আমি ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। আমি বি এন পি তে যোগ দেইনি বা অনেকের মতো অন্য আর কোন দল ও করিনি । অনেক বড় বড় নেতা যারা কয়েকটি দল করার পরে আওয়ামীলীগে এসেছিলেন তাঁদেরকে মাথায় নিতে তাঁদের সমস্যা নাই। আমি ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামীলীগ এতে তাঁদের সমস্যা কেন? এটা হতে পারে তাঁদের নোংরা মন মানসিকতা এবং তাঁরা চায়না চায়না দিরাই – শাল্লার উন্নয়ন হোক এবং এই এলাকা সারা দেশের সাথে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামিল হোক। অথবা জননেত্রি শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আমি নেতৃত্ব দিলে তাঁদের হয়তো সমস্যা হতে পারে।

যোগদানের কারনঃ

সাত ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ যাকে গনত্রন্ত্রের ধারণার প্রবক্তা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের “দ্যা গেটিসবার্গ এড্রেস” এর সাথে তুলনা করা হয়, যে ভাষণ জাতিসংঘ অন্যতম বিশ্বসেরা ভাষণ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, “জুলীও কুরী” উপাধিতে ভূষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন নিখাদ দেশপ্রেমিক এবং সততার মূর্ত প্রতীক। যিনি তাঁর জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করে ১৩ বছরের অধিক সময় কারাবরন সহ সকল পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেই আজ আমরা এ স্বাধীন দেশের নাগরিক। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ তাই সমার্থক। কোটি বাঙ্গালীর মতো আমি ও বঙ্গবন্ধুকে তাই মন প্রান দিয়ে ভালবাসি। এই দল বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত এবং এই দলের বর্তমান নেতা জননেত্রি শেখ হাসিনা যিনি দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নবান্ধব, যে নেতার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে রুপান্তর করার জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট ও সুচিন্তিত ভিশন ও কর্মকৌশল যার বাস্তবায়নে তিনি নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে তাঁর হাতকে শক্তিশালি করার উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এই দলে যোগ দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ জনগনের দল এবং জনগন এর শক্তি অন্য কোন উৎস থেকে এর উৎপত্তি নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার জনকল্যাণে সকল কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে চলেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, রুপ্পুর পারমাণবিক প্রকল্প, পায়রা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, ফ্লাইওভার, মেট্ররেল সহ লক্ষ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে ও হচ্ছে এবং আমি মনে করি আর ১০ বছর উন্নয়ন এর এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধেই দেশ উন্নত হয়ে যাবে। অনেকে বলবেন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতিও হচ্ছে। উত্তর হল, শেখ হাসিনার সামনে যখন দুর্নীতি ধরা পরছে তখনই তিনি শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, দলের বা ভিন্ন দলের কাউকেই তিনি ছাড় দিচ্ছেন না।এ বিষয়ে তিনি দিনেদিনে আরও অনেক কঠোর হচ্ছেন যা জাতি আগামী দিনে দেখতে পাবে।তাঁর হাত শক্তিশালী করার জন্য তাই দরকার সৎ, কর্মঠ, দেশপ্রেমিক নিবেদিত নেতৃত্ব যারা কাজের মাধ্যমে এসব গুন প্রকাশ ও বিকাশ করেছেন, শুধুমাত্র বক্তৃতা দিয়ে নয়।শেখ হাসিনা জানেন দুর্নীতি বন্ধ না হলে উন্নয়ন টেকসই হয়না এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। তিনি তাঁর লক্ষ্য পুরনে যা যা দরকার তাই করে যাবেন।

শেখ হাসিনা সকলের কল্যাণ চান বলেই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীতে অর্থায়ন অনেক বেড়েছে, কর্মকর্তা – কর্মচারীদের বেতন ভাতা বেড়েছে, সরকারের রাজস্ব বেড়েছে, ব্যবসা বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে, বিনিয়োগ বেড়েছে, জীবন মান ও গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু মৃত্যু ও মাতৃ মৃত্যু কমেছে যা ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জনের পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে।দেশকে ভালবাসলে তাই আওয়ামীলীগের পাশে থাকার বিকল্প আছে বলে আমি মনে করি না।

ভবিষ্যৎ ভাবনাঃ

দিরাই – শাল্লা অবহেলিত এতে কারো কোন সন্দেহ নাই। সারা দেশে উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। আমাদের যেন করার কিছু নাই। এই অবস্থা আর চলতে দেয়া উচিৎ নয়। সরকারের অর্থের অভাব নাই। আমাদের অভাব নেতৃত্বের। সঠিকভাবে সঠিক বিষয় সঠিক সময়ে নেত্রীর মনোযোগে আনা গেলে যে কোন উন্নয়ন সম্ভব এবং আমি কাজ করে তা অনুধাবন করেছি। তাছাড়া, মাননীয় পরকল্পনামন্ত্রি জনাব এম এ মান্নান যার মাধ্যমে সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় তাঁর সহযোগিতা আমাদের দরকার এবং তা অবশ্যই নিতে হবে। অবহেলিত দিরাই-শাল্লাকে এগিয়ে নেবার তাগিদ আমি মনে প্রানে অনুভব করি। দিরাই –শাল্লার প্রত্যেক ইউনিয়নের সাথে উপজেলার আবুরা সংযোগ সড়ক সকলের দাবী এবং সময়ের ও দাবী, দিরাই-হুসেনপুর কল্কলি সড়ক, দিরাই – শাল্লা সড়ক, দিরাই – ধল-মারকুলি সড়ক, পাথারিয়া-ভাটিপাড়া-বাংলাবাজার সড়ক সহ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, নদী খনন ও নদী শাসনের মাধ্যমে হাওড় রক্ষা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ববস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন এসব দাবী আর কতকাল দাবী হিসাবে থাকবে? সময় এসেছে তাঁর বাস্তবায়নের এবং তা শেখ হাসিনার উন্নয়নের সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় আমি তাঁর প্রতিশ্রুত দুটি রাস্তার প্রকল্প দিরাই-উসেনপুর-কলকলি এবং পাথারিয়া-ভাটিপাড়া-বাংলাবাজার) অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি । সত্যিকার অর্থে প্রকল্প প্রনয়ন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, সৎ, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব যিনি দিরাই এর মাটি ও মানুষকে ভালবাসেন এবং এর উন্নয়নে কাজ করেছেন। আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস জন্মিয়ে এম পি হয়ে জনগণকে ছেড়ে যাওয়া লোক দিরাই-শাল্লায় গ্রহণ করা উচিৎ নয় বলেই আমি মনে করি। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ আশা করছি।

 

মিজানুর রহমানের ফেইসবুক থেকে নেয়া

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ