মৌলভীবাজারে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মুয়াজ্জিন শ্রীঘরে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০১ জুলা ২০২১ ১০:০৭

মোঃ তাজুদুর রহমান, মৌলভীবাজার:-  মক্তবের ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মসজিদের  মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা ৩০মিনিটে  সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার  গয়ঘর গ্রামের সজু মিয়ার ১০ বছর বয়সী মেয়ে প্রতিদিনের মতো গ্রামের  ঐতিহাসিক খোজার জামে মসজিদে আরবি পড়ার জন্য যাওয়ার পর মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ আরব আলী (৪৫) ভিকটিমকে তার অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে মসজিদ ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে পাশে থাকা মহিলাদের নামাজের রুমের ভেতরে ডেকে নিয়ে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে শ্লীলতাহানীসহ ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এই সময় মক্তবের অন্যান্য ছাত্রী-ছাত্রীরা কায়দা সিপারা আনতে ঐ রুমে গেলে মুয়াজ্জিন মোঃ আরব আলী ভিকটিমকে ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলতে থাকে এবং খাওয়ার জন্য বিস্কুট দেয়। অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা কায়দা সিপারা নিয়ে চলে গেলে মুয়াজ্জিন মোঃ আরব আলী মহিলাদের রুমের পর্দা ফেলে ভিকটিমকে ঝাপটে ধরে পুনরায় ধর্ষনের চেষ্টা করে।
তখন শিশুটি  চিৎকার করলে মুয়াজ্জিন আরব আলী তাকে ছেড়ে দেয়। ভিকটিম কান্না করে  বাড়িতে গিয়ে তার মা ও চাচিকে ঘটনার বিস্তারিত বলে। পরবর্তী ভিকটিমের পিতা সজু মিয়া এলাকার লোকজনের নিকট বিষয়টি জানান এবং বিচার প্রার্থী হন। সে মোতাবেক ২৮ জুন রাত সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় মসজিদের সন্নিকট আজম শাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। শালিস বৈঠকে এলাকার লোকজন মিলে ধর্ষণের চেষ্টাকারী মুয়াজ্জিন মোঃ আরব আলীকে কৌশলে শালিস বৈঠক থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে এমনকি শিশুটির  পরিবারকে এই বিষয়ে বাড়াবাড়ী না করার জন্য চাপ দেয়া হয়।
এদিকে এক পর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৯ জুন  সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়ার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ জিয়াউর রহমানের দিক নির্দেশনায় ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়াছিনুল হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মডেল থানার চৌকুস দুটি টিম অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দানিয়ালপুর এলাকা থেকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মোঃ আরব আলী (৪৫)কে গ্রেফতার করা হয়। আরব আলী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দানিয়ালপুর গ্রামের মৃত মঞ্জব আলীর ছেলে।
ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির ৭ ঘন্টার মধ্যেই মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ মোঃ আরব আলীকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় যারা আরব আলীকে পালিয়ে  সহায়তা করেছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। ভিকটিমের পিতা সজু মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার  মডেল থানায় মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত আরব আলীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ