ছাতক কৈতক হাসপাতালে ডাক্তার ও সি‌নিয়র নার্সরা মুখামু‌খি অবস্থানে

প্রকাশিত:রবিবার, ৩০ মে ২০২১ ০৭:০৫

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-  ছাতকে ডাক্তার ও সি‌নিয়র নার্সদের মধ্যে প্রাইভেট প্র‌্যাক‌টিসকে বন্ধ নিয়ে প‌ক্ষে বিপ‌ক্ষে বি‌রোধ‌কে কেন্দ্র পাল্টা পা‌ল্টি অ‌ভি‌যোগের এ ঘটনায় ডাক্তার ও নার্সরা মুখামু‌খি অবস্থা‌নে। এ ঘটনার জের ধ‌রেই যে কোন সময় হাসপাতা‌লে ম‌ধ্যে সংঘ‌র্ষের আশংকা বিরাজ কর‌ছে।

জানা যায়,উপজেলায় কৈতক হাসপাতালে অ‌ধিকাংশ সাধারণ নার্সরা হয়েছেন ডাক্তার! তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শ`শ` রোগী প্রতি‌নিয়ত ভা‌বে প্রতারিত হচ্ছেন। তারা বাসায় একটি চেম্বার খুলে বসেছে আ‌ছেন । এখানকার হাসপাতা‌লে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় এ সুবা‌দে নার্সরা গাইনি চিকিৎসক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিগ্রি তো দূরের কথা, সাধারন নার্সরা হয়ে উঠেছে।

না‌সিং ও মিডওয়াইফা‌রি অ‌ধিদপ্তর ক‌লেজ অব না‌সিং একা‌ডে‌মিক ভবনের মহা প‌রিচালক অ‌তি‌রিক্ত স‌চিব তন্দ্রা শিকদার গত ২০১৮ সা‌লে ১০ মে সারাদে‌শে সি‌নিয়র ষ্টাফ নার্স পদমষাদার কর্মকতা কর্তৃক চি‌কিৎসা পত্র প্রদা‌নের বিএনএম সির প্রচ‌লিত বি‌ধি আই‌ন মোতা‌বেক চি‌কিৎসা পত্র প্রদান ও প্র‌্যাক‌টিস করার কোন বিধান ও সু‌যোগ নাই ম‌মে এক‌টি প্রঞ্জাপন জা‌রি ক‌রেন। এ প্রঞ্জাপন বৃদ্ধাআঙ্গুল দে‌খি‌য়ে কর্মরত এ হাসপাতালে নার্সরা গাইনি ডাক্তার সেজে দীঘদিন ধ‌রেই প্রতারণা করে আসছেন রোগীদের সঙ্গে। এসব প্রতারনা বন্ধের ল‌ক্ষে কৈতক হাসপাতা‌লে আর এমও ডাক্তার মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম তার নিজ উ‌দ্যো‌গে গত ২৮ মাচ ২১ সি‌নিয়র ষ্টাফ নার্স প্রাই‌ভেট প্র‌্যাক‌টিস বন্ধ করাসহ হাসপাতা‌লে সেবা প্রদানকা‌লে কোন টাকা গ্রহন না করার জন‌্য এক‌টি অ‌ভি‌যোগ সি‌ভিল সার্জন সুনামগঞ্জ, ছাতক উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য প‌রিবার প‌রিকল্পনা কর্মকতা ছাতক ও সুনামগঞ্জ পাব‌লিক হেলস নার্স সুনামগঞ্জকে অবগত ক‌রে এক‌টি চি‌ঠি ইন্সু‌্য করা হয়।

এ ঘটনায় হাসপাতা‌লে আর এসও ডাক্তার মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম বিরু‌দ্ধে ক্ষোদ্ধ হ‌য়ে সি‌নিয়র নার্স কৃষনা রানী দাস ও আ‌মেনা না‌হিদ নেতৃ‌ত্বে হাসপাতালের ‌সি‌নিয়র নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার মোজাহারুল ইসলামের বিরু‌দ্ধে নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মবিরতির মাধ্যমে প্রতিবাদ ক‌রে‌ গত ৬ এ‌প্রিল হাসপাতালের ‌সি‌নিয়র নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতালের গেটের সামনে তারা এ কর্মবিরতি পালন করেন।

তারা ব‌লেন আরএমও ডাক্তার মোজাহারুল ইসলামের নিয়মনীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের জন্য কাজের প্রতি তাদের অনীহা বাড়ছে। তিনি সময়মতো হাসপাতালে না এসে প্রাই‌ভেট চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ব‌লে সি‌নিয়র নার্সরা অ‌ভি‌যোগ ক‌রেন। ফলে সেবাপ্রার্থীরা সঠিক সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছেন। এ বিষয়ে আরএমও ডাক্তার স‌ঙ্গে কেউ কথা বললে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে থাকেন।

এব‌্যাপা‌রে আরএমও ডাক্তার ডাক্তার মোজাহারুল ইসলাম জানান, নার্সদের বিরু‌দ্ধে নানা অ‌ভি‌যোগ ক‌রে ব‌লেন শুধু নামে নয়, সাদা কাগজে ব্যবস্থাপত্রে লেখেন। তাদের ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে। ‌দীঘ‌দিন ধ‌রে চল‌ছে। এ হাসপাতালে এসে সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা রোগীদের আরও বেশি বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ক‌রেন এলাকাবা‌সির লোকজন।

এ হাসপাতালে অ‌ধিকাংশ সেবিকা হিসেবে যোগদান করেই তারা ডাক্তার সেজে তাদের বাসায় চেম্বার খুলে নিয়মিতভাবে রোগী দেখছেন। ডাক্তাররা তাদের অবৈধ প্রতারণা ব্যবসায় প্রতিবাদ করলে নেমে আসে নানা ধরনের হুমকি-ধমকির ঘটনা। তারা মানসম্মানের ভয়েই প্রতিবাদ থেকে বিরত থাকেন ডাক্তাররা।

প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে ফি ৩০০ টাকা ক‌রে নিচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে নিজের সাদা কাগজে লিখে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশনও। চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি চেম্বারে রাখায় রোগীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
কৈতক ২০ শষ্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন এ হাসপাতালে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা সুচিকিৎসা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক‌রেন। এখানে অ‌ধিকাংশ নার্সরা ও কর্মরত ডাক্তার মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম এখা‌নে
যোগদান করার পরই অ‌বৈধ ব‌্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে জখমি সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এখানে নিয়োজিত নার্স কৃষনা রা‌নি দাশ বেশিরভাগ সময়ই প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ২১ বছর ধরে একাধারে কর্মরত থাকায় হাসপাতালটি তাদের পৈতৃক জমিদারি তালুকে পরিণত হচ্ছে। তার ক্ষমতার দাপ‌টে হাসপাতা‌লে ডাক্তার জি‌ন্মি হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। তাদের নানা অ‌নিয়ম,অ‌বৈধ ডে‌লিভা‌রি রো‌গি‌কে প্রেসক্রিপশন না কর‌তে হাসপাতা‌লে ডাক্তার মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম তাকে প্র‌‌্যাক‌টিস না করায় কৃষনা রানী দাশ ক্ষোদ্ধ হ‌য়ে ডাক্তার মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলামের উপর ক্ষে‌পে ডাক্তারের বিরু‌দ্ধে নানা অপ্রচার ক‌রে হুম‌কি দাম‌কি দি‌য়ে আস‌ছেন । সরকা‌রি হাসপাতা‌লে ঔষধ লুটপাট,পুকু‌র মাছ,বিদুৎ বিলসহ নানা অ‌নিয়ম ক‌রে লাখ লাখ লুটপা‌টের অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠেছে সি‌নিয়র নার্সদের বিরু‌দ্ধে।
নার্স, সুইপার, আয়াসহ জখমি সনদের দালালি নিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা কর্তব্যরত ডাক্তারদের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসব অভিযোগ হাসপাতালে আগত রোগীদের। কৈতক হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার

মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম তার বিরু‌দ্ধে আনীত অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে ব‌লেন সি‌নিয়র ষ্টাফ নার্সরা প্রাই‌ভেট প্র‌্যাক‌টিস বন্ধ করার নো‌টিশ দেয়ার এ ঘটনায় সি‌নিয়র নার্স কৃষনা রানী দাশ ও আ‌মেনা না‌হিদনসহ অ‌ধিংকাশ নার্সদের নেতৃ‌ত্বে রোগীর সেবা দেবে কিন্তু ব্যবস্থাপত্র কোন বিধি বিধান বা এখ‌তিয়ার নেই। ওরা অ‌বৈধ ব্যবস্থাপত্র বিরু‌দ্ধে উপ‌জেলা ও জেলার কর্মকতা‌কে আ‌মি লি‌খিত ভা‌বে অবগত ক‌রেছি।

এ ব্যাপারে সি‌নিয়র নার্স আমেনা না‌হিদ তার বিরু‌দ্ধে আনীত অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে ব‌লেন প্রাই‌ভেট প্র‌্যাক‌টিস কখ‌নো করে‌নি। ডাক্তার‌দের অনু‌মো‌দিত নিয়ে মহিলা‌দের ঔষধ দেয়া হয়।

এব‌্যাপা‌রে সি‌নিয়র নার্স কৃষনা রানী দাশ তার বিরু‌দ্ধে আনীত অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে ব‌লেন হাসপাতা‌লে আরএমও কোন ধরেন চি‌ঠি ইসু‌্য করার এখ‌তিয়ার নেই । তারা কতৃপ‌ক্ষে অ‌নু‌মো‌দি নি‌য়ে প্র‌্যাস‌টিস কর‌ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার রাজীব চক্রবর্তী জানান, নার্সদের প্র‌্যাক‌টিস করার কোন এখ‌তিয়াত নেই।এসব হ‌লে তদন্তপু্বক ব‌্যবস্থা নেয়া হ‌বে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ