যুক্তরাজ্য প্রবাসী মামার বিরুদ্ধে ভাগ্নের অপপ্রচার!

প্রকাশিত:শুক্রবার, ৩০ এপ্রি ২০২১ ১০:০৪

সিলেট অফিস।। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাটলী কুড়েরপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত ইসকন্দর আলীর ছেলে সজ্জাদ আলী (৫০)। তিনি দীর্ঘ ৪ দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। বিলেতে বসবাসকারী এ রেমিট্যান্সযোদ্ধা দেশে কষ্টে অর্জিত টাকায় জায়গা জমি ক্ষয় করেছেন। গড়ে তুলেছেন সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকায় গ্রীণ হিল হোটেল ও মার্কেট। নিজে যুক্তরাজ্যে থাকায় আপন ভাগ্নে একই এলাকার মৃত তৈমুর রাজার ছেলে রায়হান রাজা (৩০) কে তার ব্যবসা ও স্থাপনা দেখবাল করার জন্য নিয়োজিত করেন। এছাড়া মামা সজ্জাদ আলীর মালিকানাধীন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেইটস্থ মদিনা অ্যান্ড রিয়াদ ফার্মেসি দেখবাল করার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। সে ঠিকঠাক মতো ফার্মেসির হিসেব দেয় না। হিসেব না দিতে পারায় ভাগ্না রায়হানকে ফার্মেসি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ভাগ্না যেতে চায় না। যেতে হলে তাকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানায়। এতে তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে মামার নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে রায়হান। এছাড়া মামার মালিকানাধীন জায়গায় ও হোটেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এসব অভিযোগ করেছেন যুক্তরাজ্যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা সজ্জাদ আলী। তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলায় যুক্তরাজ্যে আসলে আমার বোনকে আনতে পারি নি। তবে মামলা মোকদ্দমা করে পরবর্তীতে বোনকে না আনতে পারলে ভাগ্না রায়হান ও তার ৪ বোনকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসি। যুক্তরাজ্যে আসার পর আমার ভাগ্না (রায়হান) মাদক সেবন ও বিক্রি করতে থাকে। আমরা নানাভাবে তাকে আপত্তি করলে সে আমাদের আপত্তি না মেনে মাদক সেবন ও বিক্রি করে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে এক ব্যক্তিকে সে খুন করে। পরবর্তীতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে ৫ বছর জেল কেটে পুলিশ রিপোর্ট করে তাকে যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেয়। পরে দেশে যায় রায়হান। দেশে আসার পর বেকার রায়হান আমার আব্বার কাছে থাকতো। পরবর্তীতে আমাদের হোটেল ও ফার্মেসি দেখবালের দায়িত্ব দেই। একপর্যায়ে সে ময়মনসিংহ এলাকায় নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে এবং আমার আরেক ভাগ্না শফিকের মাধ্যমে সেটা আমরা নিষ্পত্তি করি। এছাড়া বিভিন্ন সময় সে রাষ্ট্রীয় কাজে বাঁধা দেয়ার জন্য সিলেট নগরে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। ছাত্রদল ক্যাডার রায়হান সর্বশেষ আমার মালিকানাধীন হোটেলে মাদকের হাট বসালে আমরা এতে আপত্তি করলে সে আমাদের অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বলে যাচ্ছে সে এসব করবে ; কারো ক্ষমতা থাকলে ঠেকায় যেন। সে হোটেলে যখন মাদক সেবন করে তার সাথে রশিদ ও মতিউর নামের দুইজন সহযোগিতা করে। তাদের নিয়ে আমার হোটেল, মালিকানাধীন ফার্মেসি ও মার্কেট দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাকে না কি সে দেশে আসতে দেবে না। দেশে আসলে প্রাণে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়।

আমি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার হোটেল, ফার্মেসি ও মার্কেট দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সে সাথে মাদক সেবন ও ব্যবসায়ী রায়হান গংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে রায়হানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।