জৈন্তাপুর সীমান্তে থেমে নেই চোরাকারবার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব, আইন প্রয়োগের দাবী সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ এপ্রি ২০২১ ০৫:০৪

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:-  থেমেই নেই চোরাচালান, জৈন্তাপুর উপজেলা সীমান্তের ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত হতে অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু, কসমেট্রিক্স, আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ, ইয়াবা, টাটা গাড়ীর পার্স, টায়ার, টিউব, সিএনজি আটো রিক্সার চাকা, বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল হ্যান্ড সেট, নিম্ন মানের চা-পাতা, মটর সাইকেল, বিভিন্ন কোম্পানীর বিস্কুট এবং ভারতীয় শাড়ী নিয়ে আসছে চোরাকারবারীরা৷
জানাগেছে সীমান্ত রক্ষীর বাহিনীর কিছু সংখ্যাক সদস্য ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যাক সদস্যরা সীমান্তে চোরাকারবারীদের সাথে সমন্বয় করে তাদের নিয়োজিত সোর্সদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা এবং মামলা ও সিজারের জন্য কিছু সংখ্যাক গরু এবং মদ ও বিড়ি এবং কসমেট্রিক্স বিনিময় করে এসকল পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।
সীমান্তের নলজুরী, আলু বাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, আসামপাড়া, ছাগল খাউরী, মিনাটিলা, রাবার বাগান, কাটালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, ডিবির হাওর (আসামপাড়া), ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা (সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র), কমলাবাড়ী, ভিতরগোল, গোয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, নয়াগ্রাম, কালিঞ্জীবাড়ী, জালিয়াখলা, নয়াগ্রাম, বড়গাং নদীর উৎসমূখ, সারী নদীর মুখ, লাল মিয়ারটিলা, বাঘছড়া, জঙ্গীবিল, আফিফা নগর, তুমইর, ইয়াং রাজা, বালিদাঁড়া, সিঙ্গারীর পাড় এলাকার অন্তত ১২০টি চোরাইপথ দিয়ে এসকল পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশে নিয়ে আসছে ৷ এছাড়া বাংলাদেশ হতে ভারতে পাচার হচ্ছে আমদানীকৃত মটরশুটি, বিভিন্নপ্রকার ডাল এবং স্বর্ণের বার।
সীমান্তের বাসিন্ধারা জানান, চোরাকারবার নিয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশীরা ধরে নিয়ে আসে ভারতীয় খাসিয়াদের আবার অনেক সময় ভারতীয় চোরাকারবারীরা ধরে নিয়ে যায় বাংলাদেশী চোরাকারবারীদের ৷ সীমান্তের বাসিন্ধাদের সূত্রে জানাযায় জৈন্তাপুর উপজেলার প্রায় ১০/১২ জন নাগারিক সীমান্ত আইন লঙ্গনের দায়ে ভারতের কারাগারে কারা বরণ করছে ৷ এছাড়া চলতি মাসে গত সপ্তাহে চোরাকারবারীরা একজন ভারতীয় খাসিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে আসে ৷ প্রকাশিত ঘটনাছাড়াও সীমান্তে চোরাকারবার নিয়ে প্রায় সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী চেরাকারবারীদের ধাওয়া করে ৷ কিন্তু চোরাকারবারীর চাইতে সীমান্তের সাধারণ বাসিন্ধারা হয়রানীর স্বীকার হতে হয় ৷ সীমান্তের বাসিন্ধাদের তথ্য মতে চোরাকারবারীদের অবাধ বিচরনের কারনে সাধারণ জনগন হয়রানীর স্বীকার হতে হয় বেশি৷ অপরদিকে চোরাকারবার বিষয় নিয়ে কেউ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চোরাকারবারীরা তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানী করে৷ এই করনে সাধারণ বাসিন্ধারা তথ্য দিতে নিজেদের নাম প্রকাশে অনিহা প্রকাশ করে৷
সম্প্রতি ১৯ বিজিবির আওতাধীন এলাকার মধ্যে লালাখাল বিওপির আওতাধীন সবকয়েকটি চোরাইপথ এবং জৈন্তাপুর বিওপির আওতাধীন ঘিলাতৈল টিপরাখলা এলাকা অন্যতম৷ তথ্য সূত্র আরও জানায় বিওপির আওতা ছাড়া ব্যাটালিয়ন কমান্ডরের (সিও) নামেও সোর্স চক্র চাঁদা আদায় করছে৷ তাই কোন ভাবেই থেমে নেই জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তের চোরাচালান৷ এছাড়া সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারতীয় খাসিয়ারা বিনা বাঁধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং সিলেট শহর সহ শ্রীমঙ্গল মৌলবী বাজার এমনকি রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করে৷ বিষয়টি সরকারী বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তদন্তে উঠে এসেছে৷
সীমান্তের এসকল কর্মকান্ড দমন করতে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন সীমান্তে বসবাস রত শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ ৷ তারা আরও বলেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে অচিরেই মাদকের কবল গ্রাসে উপজেলার যুব সমাজ ধ্বংসের মুথে হাত বাড়াবে৷

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ